হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার এবং আরও কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “তাঁরা আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, দয়া করে হামলা করবেন না, আমরা একটি চুক্তি করিয়ে দেব। এটাই প্রকৃত সত্য। আর সবাই তা জানে।”
তিনি আরও বলেন, “শিরশ্ছেদের আগে আমি তাদের শেষ সুযোগ দিতে চাই।” ট্রাম্প জানান, তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতেই বেশি আগ্রহী। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। আমি গর্বিত যে মানুষকে আরেকটা নতুন সুযোগ দিচ্ছি।”
তেহরানের অস্বীকার, তবু আলোচনার দাবি ট্রাম্পের:
এর আগে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা চলছে বলে অস্বীকার করেছিল। তবে ট্রাম্প ফের দাবি করেন, আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তেও কথা বলছি।”
ট্রাম্প জানান, আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের সমাধান। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী “আক্ষরিক অর্থেই আগামিকাল” খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, তবে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আশা করি তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ যা ঘটেছে—তাদের পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না। তবে আশা করি তারা সঠিক পথে ফিরবে।”
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে পরে তিনি জানান, সম্ভাব্য একটি চুক্তির রূপরেখা তৈরি হতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাদের আলোচনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়, বরং হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে হচ্ছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র Esmaeil Baqaei বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা ওমানের সঙ্গে চলছে।” তিনি আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে—এমন দাবি অবশ্য সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেন।
.@POTUS on Iran talks: “They’re going to go quickly one way or the other. It’s not very complex. We’re talking about the opening of the Strait, having it open literally by tomorrow—completely open. That’s phase one, and phase two is we then will talk about the nuclear… we’re… pic.twitter.com/4SMtoDXRfM
— Rapid Response 47 (@RapidResponse47) August 3, 2026
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য অনুমতি চেয়ে ‘সার্ভিস ফি’ দিতে হবে। তেহরানের ওই বার্তার পরেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘হয় সমঝোতা করুন অথবা পুরোপুরি আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’’