এক বিবৃতিতে রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বালোচিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, সমগ্র বালোচ জাতির মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দিনটি উদ্যাপনেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
দেশব্যাপী ও বিশ্বজুড়ে উদ্যাপনের আহ্বান:
বালোচ মুক্তি আন্দোলনের নেতা মির ইয়ার বালোচ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, স্বাধীন বালোচিস্তানের জাতীয় পতাকা বাড়ি, পাড়া, বাজার, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে উত্তোলন করতে।
তিনি বলেন, এই উদ্যাপনের উদ্দেশ্য হল দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ করা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান ১১ অগাস্টকে তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হবে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে নতুন আবেদন:
বিবৃতিতে বালোচিস্তানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও আবার করে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপাবলিক অফ বালোচিস্তানের দাবি, পাকিস্তানের বর্তমান কাঠামোতেই থেকে গেলে স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বালোচিস্তানের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অবস্থানকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ৬ কোটি (৬০ মিলিয়ন) বালোচ জনগণ নিজেদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে মনে করেন।
কেন ১১ অগাস্ট?
গোষ্ঠীটির বিবৃতি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্ট ব্রিটিশদের ভারতীয় উপমহাদেশ ত্যাগের সময় বালোচিস্তান প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সেই স্বাধীনতার ঘোষণার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, যার মধ্যে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-ও ছিল, প্রকাশ করেছিল এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-তেও তা সম্প্রচারিত হয়েছিল।
এই ভিত্তিতেই গোষ্ঠীটির দাবি, বালুচ জাতি দীর্ঘদিন ধরে ১১ অগাস্টকে তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই দিনটি একইভাবে পালন করবে।
পাকিস্তানের ভূমিকার সমালোচনা:
বালোচদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের বিভাজনের পর কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে সংঘাত, অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক সঙ্কট চলেছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের নীতির প্রভাব শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য অংশেও পড়েছে।
বিবৃতিতে যেসব ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কাশ্মীর বিরোধ, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে বালোচিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ যার ফলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়, জর্ডানে প্যালেস্তিনীয়দের ঘিরে সামরিক অভিযান, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, ১৯৯৮ সালে চাগাই জেলায় পাকিস্তানের পরমাণু পরীক্ষা এবং আমেরিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী ঘটনাবলি।