সূত্রটির দাবি, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচকরা কাজ করছেন। সর্বশেষ দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে নৌ-চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা। সূত্রটি জানায়, “পরোক্ষ আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের সমর্থিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি খসড়াও প্রস্তুত হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ওমানে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে মূলত উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানোর বিষয়েই আলোচনা চলছে।
এছাড়া, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোও ওমানে চলতে থাকা বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সমঝোতার পথে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত:
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারাও শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, “আজ অথবা আগামিকালের মধ্যেই” ওয়াশিংটন ও তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তাঁর মতে, এমন একটি সমঝোতা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে সহায়তা করবে।
CNBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে “অবাধ নৌ-চলাচল” পুনঃস্থাপন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হত।
বর্তমানে এই জলপথ কার্যত ইরানের অবরোধের আওতায় রয়েছে। তেহরান জাহাজগুলোকে প্রণালী অতিক্রমের আগে ইরানের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি, ইরান জাহাজ চলাচলের উপর টোল আরোপেরও চেষ্টা করেছে, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে ওয়াশিংটন।
সর্বশেষ এই কূটনৈতিক উদ্যোগটি এসেছে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের নতুন করে আলোচনার প্রচেষ্টার পর। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার এবং আরও কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে—এমন দাবি অস্বীকার করেছে। তবে কাতার মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছে যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে, যদিও এই মুহূর্তে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনও সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।