নয়াদিল্লি: বছর ঘুরলেই পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিলেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপি-তে আগেই যোগ দিয়েছেন রাঘব। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ঠিক কী দায়িত্ব পেতে পারেন রাঘব, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন তিনি। (Raghav Chadha News)
মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ রাঘবের
শনিবার সকালে মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ হয় রাঘবের। সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজেই সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করেন তিনি। একটি ছবিতে মোদির হাতে ভগবান গণেশের মূর্তি তুলে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অন্য একটি ছবিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসে রয়েছেন তাঁরা। ছবি পোস্ট করে রাঘব লেখেন, ‘এই সকাল আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হল। ওঁর সঙ্গে বিশদ এবং সমৃদ্ধশালী আলোচনা হয়েছে। উনি যে সময় গিয়েছেন, ওঁর অন্তর্দৃষ্টি এবং পথনির্দেশে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেলাম। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ’। (Raghav Chadha Meets Narendra Modi)
A morning I will cherish.
Had the privilege of meeting Hon’ble Prime Minister Shri @narendramodi Ji. A detailed and enriching interaction. Deeply grateful for his generous time and for the opportunity to benefit from his insights and guidance. 🇮🇳 pic.twitter.com/4A5cEwVCNg
— Raghav Chadha (@raghav_chadha) August 8, 2026
আরও পড়ুন: ভারতকে শাস্তি দেওয়ার ভাবনা? ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন ট্রাম্প? বিল পাস হল আমেরিকার সেনেটে
পঞ্জাবে বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন কি রাঘব?
মোদির সঙ্গে রাঘবের এই সাক্ষাৎ এবং তাঁর পোস্ট ঘিরে জল্পনা বেড়েছে স্বভাবতই। কারণ আর কয়েক মাস পরই পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। একদিন আগেই মোদির সঙ্গে দেখা করেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদল। ২০২০ সালে বিতর্কিত কৃষি বিলের জেরে NDA-র সঙ্গ ত্যাগ করেছিল তারা। বিরোধীদের I.N.D.I.A শিবিরেও যোগ দেয়নি। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-র সঙ্গে তারা পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছে কি না, তা নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে।
তবে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে রাঘবকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। একদা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। আম আদমি পার্টিতে তাঁকে কেজরিওয়ালের উত্তরসূরি হিসেবেও দেখতেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এমনকি পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবেও উঠে এসেছিল তাঁর নাম। সেই রাঘব চলতি বছরের গোড়ায় আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। ছয় সাংসদকে নিয়ে যোগ দেন বিজেপি-তে। সেই থেকেই পঞ্জাবে তিনি বিজেপি-র হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে শোন যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: ফের কি সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে চলেছে পাকিস্তানে? শেহবাজ শরিফকে সরিয়ে সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন আসিম মুনির?
আম আদমি ছাড়ার পর বিজেপি-কে পঞ্জাবে জয় এনে দিতে পারবেন রাঘব?
সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই তার প্রস্ততি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। রাজ্যসভায় পঞ্জাবের হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন রাঘব। জলন্ধরে তাঁর শিকড়। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানে তাঁকে বিজেপি এগিয়ে দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে তাঁকে দেখা যাবে, নাকি তাঁকে মুখ করেই পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বে বিজেপি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাঘবও নির্দিষ্টি ভাবে কিছু খোলসা করেননি এখনও পর্যন্ত।
তবে রাঘবকে পঞ্জাবের মুখ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বিজেপি-র কাছে। ২০২২ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও, সেখানে আম আদমি পার্টির নির্বাচনী রণকৌশল রচনা করেছিলেন তিনিই। শিরোমণি অকালি দল, বিজেপি, কংগ্রেসকে ছাপিয়ে, তাঁর রণকৌশলে ভর করেই সেখানে ক্ষমতা দখল করে আম আদমি পার্টি। এখন বিজেপি-র সদস্য হিসেবে সেই একই কাজের দায়িত্ব পেতে পারেন রাঘব।
পঞ্জাবের নির্বাচনী সমীকরণ সম্পর্কে শুধুমাত্র অবগতই নন, শহরাঞ্চলে এবং যুবসমাজের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় রাঘব। অমৃতসর, লুধিয়ানা, জলন্ধররের মতো জায়গায় ভিত মজবুত করতে তাঁর উপর ভরসা করতে পারে বিজেপি। তাঁর হাত ধরে বিজেপি পঞ্জাবে বাজিমাত করতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে।