নয়াদিল্লি: মোহন ভাগবতের কানাডা সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা। সফরের বিরোধিতা শুরু হল কানাডায়। আর সেই বিরোধিতায় এবার শামিল হলেন দেশের দুই সাংসদ। ভাগবতকে কানাডায় ঢুকতে দেওয়া যাবে না বলে দাবি তুললেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বিজেপি-র অভিভাবক সংস্থা রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সেবক সঙ্ঘকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তুললেন। (Mohan Bhagwat Canada Visit)
জন নিরাপত্তা, বিদেশনীতি, অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব বিভাগের মন্ত্রীদের পৃথক ভাবে খোলা চিঠি লিখলেন ওই দুই সাংসদ- হেদার ম্যাকফার্সন এবং জেনি কোয়ান। তাঁদের বক্তব্য, ‘কানডায় ভাগবতের পদার্পণ দেশের নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে তাঁর আগমনে। কানাডায় তাঁর জন্য কোনও জায়গা নেই। এই মুহূর্তে RSS এবং সংগঠনের সদস্যদের নিষিদ্ধ করা উচিত’। (RSS News)
৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাগবতের কানাডা সফর নির্ধারিত রয়েছে। বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যেই এই সফর। কিন্তু তাঁর সেই সফর নিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়েছে কানাডায়। খোলা চিঠিতে হেদার এবং জেনি লেখেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক ভাষণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানি দেওয়া, ভারত এবং কানাডায় সমালোচকদের বীতি প্রদর্শন, অপরাধী এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ হেতু ভাগবতকে যেন কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়’।
হেদার এবং জেনি ‘নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র সদস্য। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই দলকে নেতৃত্ব দেন জগমীত সিংহ। ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা এবং খালিস্তানপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৩ সালে তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে ভারত। হেদার এবং জেনি-র দাবি, কানাডায় RSS-এর প্রভাব বিস্তারের সপক্ষে ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে, ‘ভারতে মুসলিম, শিখ, দলিত এবং অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন, সহিংস হুমকি দেওয়ার নজিরও রয়েছে’।
আরও পড়ুন: রাতের আকাশে কী উড়ে বেড়াচ্ছে? ভিন্গ্রহী যান কি? UFO ফাইলস সামনে আসতেই জোর পেল বিতর্ক
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্য়া করে হেজার এবং জেনি দাবি করেন, তাঁরা RSS এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে। হিন্দু ধর্ম এবং কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরোধী নন। তাঁদের বক্তব্য, ‘RSS-কে সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সংগঠনের আদর্শ, বর্তমান কার্যকলাপ ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, বর্জনমূলক মনোভাব এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণে উদ্বিগ্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।’
তবে শুধুমাত্র হেদার এবং জেনি নন, চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ভাগবতের কানাডা সফরের বিরোধিতা করে সেদেশের মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস পর অল কানাডা’। দেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি লেখে তারা। চিঠি দেওয়া হয় অন্যান্য মন্ত্রককেও। কানাডার ২৬৭টি সুশীল সমাজ সংস্থা, মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী এবং অন্যদের তরফে চিঠি দেওয়া হয় কানাডা সরকারকে। বলা হয়, ‘ভাগবতের প্রবেশাধিকার পর্যালোচনা করে দেখা হোক এবং কানাডায় তাঁর প্রবেশের আর্জি প্রত্যাখ্যান করা হোক’।
পাশাপাশি, কানাডার একাধিক নাগরিক সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠনও ভাগবতের সফরের বিরোধিতা করেছে। জন নিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি এ-কে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেই মর্মে। কানাডিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন ইন্ডিয়া, কানাডিয়ান কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ান মুসলিমস, কানাডিয়ান্স ফর ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেসি, সাউথ এশিয়ান দলিত আদিবাসী নেটওয়র্ক, ওয়র্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন এবং কানাডিয়ান কাউন্সিল অফ মুসলিম উইমেন ভাগবতের সফরের বিরোধিতায় সরব হয়েছে।