US Iran War : যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, আর আধুনিক যুগে যুদ্ধ মানেই অঢেল অর্থের অপচয়। আমেরিকার পেন্টাগন থেকে আসা সাম্প্রতিক তথ্য অন্তত সেই কথাই বলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-তে এ পর্যন্ত যা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে একটি ছোট দেশের কয়েক বছরের বাজেট অনায়াসেই চলে যেত।
খরচের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
পেন্টাগনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, এই অভিযানে এ পর্যন্ত আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২.৩ লক্ষ কোটি টাকার সমান। এই অর্থের পরিমাণ কতটা বিশাল তা বুঝতে নিচের তুলনাগুলো দেখা যেতে পারে:
নাসার বাজেট: এই ২৫ বিলিয়ন ডলার আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) এক বছরের মোট বাজেটের সমান।
ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট: এটি ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
মানবিক সাহায্য: এই টাকা দিয়ে ওমান, পানামা বা জর্জিয়ার মতো দেশের সমপরিমাণ জনসংখ্যা অর্থাৎ প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষকে টানা ১০ বছর পেটভরে খাওয়ানো সম্ভব ছিল।
প্রতি মিনিটে খরচ কত?
হিসাব কষলে দেখা যাচ্ছে, এই যুদ্ধে আমেরিকার দৈনিক খরচ হচ্ছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। আরও সূক্ষ্মভাবে দেখলে, যুদ্ধের ময়দানে প্রতি মিনিটে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ লক্ষ ডলার! যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ব্যয় হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, যার প্রধান কারণ ছিল অত্যাধুনিক মিসাইল এবং গোলাবারুদের ব্যাপক ব্যবহার।
টাকা কোথায় যাচ্ছে?
পেন্টাগন জানাচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সিংহভাগই ব্যয় হচ্ছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে। বিশেষ করে প্রতিটি ‘প্রিসিশন গাইডেড’ মিসাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামের আকাশছোঁয়া দাম এই খরচের প্রধান কারণ।
বিকল্প কী হতে পারত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ যুদ্ধের পরিবর্তে জনকল্যাণে ব্যবহার করলে বদলে যেতে পারত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন। এই ২৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে আমেরিকার লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা বা শিশু পরিচর্যা (Childcare) সহায়তা নিশ্চিত করা যেত।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
শুধুমাত্র সামরিক বাজেটই নয়, গত ৫০ দিনের এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব তেলের বাজারও অস্থির হয়ে পড়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।