২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় হত্যা, হত্যায় প্ররোচনা এবং উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ওই সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। রায়ের পর সরকারি আইনজীবী এমদাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এই রায়ে খুশি।”
জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালানোর সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে চলে যান। বর্তমানে তিনি ভারতেই রয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকেও অনুপস্থিতিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।
তবে সাত নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা পক্ষ। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, অভিযুক্তরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, ট্রাইব্যুনাল চাইলে তাঁদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তিও দিতে পারত।
তিনি বলেন, “তাঁরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাঁদের সহযোগী ও সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।”
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পাঁচজন হলেন এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালি আসিফ এনান।
এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের সম্পত্তির অর্ধেক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টন করা হবে।
মঙ্গলবারের এই রায়ের পর ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৮। তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে মাত্র চারজন হেফাজতে রয়েছেন।
শেখ হাসিনা আদালতের বিচারিক কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়াকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসে। ওই নির্বাচনই ছিল হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তাঁর সরকার ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। এদিকে ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের ইচ্ছাতেই আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরবেন।