নয়াদিল্লি: ঘন ঘন কেঁপে উঠছে মাটি। একটু একটু করে পৃথিবী বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর সেই আবহেই চাঞ্চল্যকর তথ্য় সামনে এল। গবেষণায় দেখা গেল, যে হারে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া, তার দরুণই ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প বেড়ে গিয়েছে। (North Korea Nuclear Test Treamors)
Science জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মাউন্ট মান্তার নীচে সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। মাটির নীচে ওই পরীক্ষার পরই কেঁপে ওঠে সংলগ্ন এলাকা। চারপাশের পাথরে ফাটল ধরে। পর পর আফটার শকও অনুভূত হয়। যত সময় যাচ্ছে সেই কম্পনের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন কেঁপে উঠছে মাটি। (Earthquake and Nuclear Tests)
গত ২০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থির মাউন্ট মান্তা অঞ্চল। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের যে পরিসংখ্যান হাতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তাতে দেখা যাচ্ছে, মাউন্ট মান্তা ও সংলগ্ন অঞ্চলে ওই সময়ের মধ্যে ১৩৯৯ বার ভূমিকম্প হয়। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে পাতালে ছয়-ছয়টি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পর মাটি কাঁপলেও, তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার নজির নেই। কিন্তু সেখানে অস্বাভাবিক ভাবে ভূমিকম্প বৃদ্ধি পেতে দেখা গিয়েছে।
২০১৩ সালে প্রথম বার ভূমিকম্প হয় মাউন্ট মান্তা অঞ্চলে, তৃতীয় বার উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করার পর পরই। এর পর মাঝে কিছুটা স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে, যা বৃহত্তমও ছিল। সেই থেকেই সেখানকার মাটির নীচে অস্বাভাবিকতা ল চোখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পর ওই অঞ্চলে তীব্র ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার তীব্রতা ছিল ৬.৩। এত তীব্র ভূমিকম্প হয় যে একটি টানেল পর্যন্ত ধসে যায়। মাউন্ট মান্তার শৃঙ্গের আকার বদলে যায় প্রায় তিন মিটার মতো। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পরের কম্পনগুলির তীব্রতা ততটা বেশি ছিল না।
Pusan National University-র অধ্যাপক কিম CNN-কে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ পরবর্তী কম্পনের তীব্রতা ২ থেকে ৩-এর মধ্যে ছিল। গভীরতাও তেমন বেশি ছিল না। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার আগে মাউন্ট মান্ততা অঞ্চল একেবারেই ভূমিকম্প প্রবণ ছিল না। চিন এবং কোরিয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড খতিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি মাত্র কম্পনের ঘটনা ঘটেছিল ওই ২০০০ বছরে। কিম জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের মাটি এতটা অস্থির ছিল না আগে।
এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ২০১৭ সালে ওই তীব্র বিস্ফোরণের ফলে মাউন্ট মান্তার নীচের মাটি হয়ত আর আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার জেরে সৃষ্ট অভিঘাতে দু’টি চ্যুতিরেখা হয়ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের ভিতরের পুরনো এবং সুপ্ত ফাটলগুলিতে জল ঢুকে গিয়ে থাকতে পারে। এতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যার দরুণ পাথরগুলি ক্রমশ সরে সরে যাচ্ছে এবং তাতেই প্রায়শই মাটি কেঁপে উঠছে ওই অঞ্চলে।