Last Updated:
গত ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট AA1779 ছেড়েছিল নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে। প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে, স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু পরে। যাত্রী ছিলেন ১৬০ জন। আমচকাই 9D আসন থেকে উঠে আসেন এক মহিলা যাত্রী। দ্রুত তিনি পোশাক খুলতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যান। আর ওই অবস্থাতেই অশালীন আচরণ করতে থাকেন যাত্রীদের সঙ্গে।
নিউইয়র্ক: বিমানে যাত্রা করার সময়ে হঠাৎই নিজের পোশাক খুলে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়েন এক তরুণী। সেই সঙ্গেই যাত্রীদের অশালীন আচরণও করেন ওই তরুণী বলে অভিযোগ। অদ্ভূত এই ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানে।
বাল্টিমোর থেকে মায়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে যাত্রার সময় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এক মহিলা যাত্রী বিমানের মধ্যেই সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং অন্যান্য যাত্রীদের সামনে অশালীন আচরণ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনাটি শুক্রবার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের AA1779 ফ্লাইটে ঘটে। প্রায় দু’ঘণ্টা দেরির পর এয়ারবাস A319 বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু পর বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল থারগুড মার্শাল বিমানবন্দর থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেয়।
বিমানের 9D আসনে বসা ওই যাত্রীর আচরণ নিয়ে বিমানকর্মীদের জানানো হয়। অভিযোগ, তিনি “নিজের সব পোশাক খুলে ফেলেন” এবং সহযাত্রীরা তাঁকে ‘অশালীন আচরণ’ করতে দেখেন।
বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও বিমানটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে:
ফ্লাইটের প্রধান কেবিন ক্রু পরিস্থিতির কথা ককপিটে জানান। এরপর ক্রু সদস্যরা এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম (ACARS)-এর মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়ে এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বিমানটি মায়ামিতে অবতরণের পর যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার জন্য এয়ারলাইন্সের অপারেশনস সেন্টারকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও, ক্রুরা বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন না করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিমানটি মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর আধিকারিকরা গেটেই অপেক্ষা করছিলেন বলে জানা যায়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে টার্মিনাল N-এর D2 গেটে বিমানটি পৌঁছনোর পর ওই তরুণীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওই যাত্রীর এমন আচরণের কারণ কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কি না, উড়ানের সময় কেবিন ক্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, অথবা এই ঘটনার কারণে অন্য কেউ কোনওভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন কি না, তাও জানা যায়নি।
বিমানের ACARS যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এটি এয়ারলাইন্স ও বিমানকর্মীদের ব্যবহৃত একটি অপারেশনাল মেসেজিং সিস্টেম। জানা গিয়েছে, ওই তরুণীকে শান্ত করার চেষ্টাও করেন ক্রুরা। তবে তাদের কথা প্রথমে শুনতেই চাননি ওই তরুণী। তাঁকে শান্ত করতে বেগ পেতে হয় ক্রু-দের।
