নয়াদিল্লি : চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলিতে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উভয় পক্ষেরই একে অপরের ‘মূল’ বিষয়গুলির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত। ব্রিকস সম্মেলনের পর মঙ্গলবার একথা জানাল ভারতের বিদেশ-মন্ত্রক। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে উভয়পক্ষ। India-China Relations
ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে সাত বছর পর ভারত সফর করেন চিনের প্রেসিডেন্ট। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হয় সম্মেলন । তারই ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সারেন মোদি-জিনপিং। উভয় নেতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ধারাবাহিক অগ্রগতি’কে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ভারত জোর দিয়ে বলেছে যে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থাই হবে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘অপরিহার্য ভিত্তি’।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলিও উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উভয় পক্ষেরই একে অপরের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতা-এই তিনটি নীতিতে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।” তবে ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলি কী তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, বৈঠকের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য’ ছিল-‘চিন ও ভারতের পার্টনারশিপ হওয়া উচিত।’ এছাড়া ভারতের স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি বিষয়ক মোদির মন্তব্যকেও বেজিং স্বাগত জানিয়েছে।
গুও জানান, শি বলেছেন যে চিন ও ভারতের জাতীয় বাস্তবতার মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও দেশ দু’টির উচিত একে অপরের শক্তির জায়গাগুলি কাজে লাগানো এবং একে অপরের উন্নয়নকে সমর্থন করা। তিনি বলেন, “চিন-ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উভয় পক্ষেরই বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসম্মত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।” চিনা কর্মকর্তা বলেছেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের উচিত “পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার” মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্যগুলিরও সুরাহা করা।
চিনের তরফে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন যে ভারতের একটি স্বাধীন বিদেশ-নীতি রয়েছে। চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি কোনও তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং ভারত তার ভূখণ্ডে কোনও শক্তিকে চিন-বিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে দেবে না। চিন প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।”
Suvendu Adhikari’s PA : কী কারণে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর PA চন্দ্রনাথ রথকে? নেপথ্যে কাদের হাত?