ফেড (Fed) তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫% থেকে ৪%-এর মধ্যে করার পরপরই ট্রাম্প তাঁর Truth Social পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১% বা তার কম হওয়া উচিত, কারণ আমরাই বিশ্বের সেরা ক্রেডিট—অনেকটাই সেরা।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, নতুন বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি “দারুণ গতিতে এগোচ্ছে”। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশকে ‘বহন’ করছি, এবং এটা আর চলতে পারে না।” এরপর তিনি সুদের হার ‘দ্রুত’ কমানোর আহ্বান জানান।
তবে চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যাঁকে তিনি নিয়োগ করেছিলেন, সেই ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের সরাসরি সমালোচনা করেননি ট্রাম্প।
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়েছে, কারণ তারা এমন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে, যা এখনও তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেকটাই বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতিকে তাদের লক্ষ্যমাত্রায় “আরও সময়মতো ফিরিয়ে আনতে” সহায়তা করবে।
কেভিন ওয়ার্শ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা উচ্চস্তরে রয়েছে।
ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও চলতি বছরের শেষের দিকে আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, সুদের হার প্রায় ৪.১ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মন্তব্য, ‘দুর্ভাগ্যজনক’ সিদ্ধান্ত:
সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। এর আগে একাধিকবার কম ঋণ নেওয়ার খরচের পক্ষে সওয়াল করেছে প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই এই সিদ্ধান্তকে “বেশ দুর্ভাগ্যজনক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিশেষ জোরালো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই।
উচ্চ সুদের হারের ফলে পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। ট্রাম্প বারবার ফেডের কাছে সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সমালোচনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে কেভিন ওয়ার্শ বলেন, ফেড নিজস্ব দায়িত্বের উপরই গুরুত্ব দেবে এবং মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় “নিজেদের নির্ধারিত ক্ষেত্রের মধ্যেই থাকবে।”