Last Updated:
অভ্যন্তরীণ তেলের বিপুল চাহিদা মেটাতে ভারত অনেকটাই রাশিয়ার অশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীল। তেলবাহী জাহাজের আনাগোনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ‘কেপলার’ জানিয়েছে, অগাস্ট মাসে ভারত প্রতি দিন ২১ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। ভারতে আমদানিকৃত তেলের ৪৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এ ক্ষেত্রে ভারতের রাশিয়ার নির্ভরতা আরও কিছুটা বেড়েছে। শেষ দু’মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমদানি করা তেলের পরিমাণের নিরিখে ৫০ শতাংশ রাশিয়া থেকে আনিয়েছে ভারত।
ওয়াশিংটন: এ বার আর কেবল হুমকি-হুঁশিয়ারি নয়। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারত এবং চিনের মতো দেশগুলির উপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপও করতে পারবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন আইনসভা (কংগ্রেস)-র নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে এই মর্মে বিল পাস হয়েছে। এই বিলে বলা হয়েছে, যে দেশগুলি রাশিয়া এবং ইরান থেকে তেল আমদানি করে, তাদের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যাবে। এ বার কতটা শুল্ক ধার্য হবে, আদৌ হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আমেরিকা সেই সমস্ত দেশের উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যারা এখনও রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে। ২০২৬ সালের ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিচ্ছে, যারা এই আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে।
তবে একই আইনে সীমিত অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এবং রাশিয়া থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে লো-এনরিচড ইউরেনিয়াম (LEU) আমেরিকায় আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এর ফলে মস্কোর পারমাণবিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের নীতি গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ২৬২-১৫৯ ভোটে এই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনটি পাশ করেছে। এর আগে অগাস্টে সেনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন করেছিল। সংবাদ সংস্থা ANI-কে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বিলে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছেন। তবে কবে তিনি স্বাক্ষর করবেন, সে বিষয়ে কোনও সময়সীমা জানানো হয়নি।
এই আইনের আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, দেশটির আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-কে নিশানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই আইনের ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা ভারত ও চিনের মতো দেশগুলিও প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে আইনে পরিণত হওয়া ‘প্রহিবিটিং রাশিয়ান ইউরেনিয়াম ইমপোর্টস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে আমেরিকা রাশিয়া থেকে লো-এনরিচড ইউরেনিয়াম আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল।
তবে ওই আইনে একটি ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর আওতায় মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী, বিদেশ দফতর এবং বাণিজ্য দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করে রাশিয়া থেকে লো-এনরিচড ইউরেনিয়াম (LEU) আমদানির অনুমতি দিতে পারেন। যখন কোনও কার্যকর বিকল্প পাওয়া যায় না এবং কোনও মার্কিন পারমাণবিক চুল্লি বা পারমাণবিক সংস্থার কাজকর্ম বজায় রাখতে এই আমদানি প্রয়োজন হয়, অথবা আমদানিকে জাতীয় স্বার্থে বলে মনে করা হয়, তখন এই অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
বর্তমান কাঠামোর আওতায় এই ছাড়ের মেয়াদ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারির পর বাড়ানো যাবে না। মার্কিন জ্বালানি দফতরও বিদেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপর আমেরিকার পারমাণবিক শিল্পের নির্ভরতার মাত্রা স্বীকার করেছে।
মার্কিন জ্বালানি দফতর (DOE)-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এই নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আগে আমেরিকায় ব্যবহৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সরবরাহ করত রাশিয়া।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পরিষেবার উপর আমেরিকার নির্ভরতা এখনও যথেষ্ট রয়েছে।
