Last Updated:
বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমান সরকার। ভাবুন কাণ্ড। দেশটা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। আর দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের ব্যবস্থা না করে যুদ্ধবিমান কিনছেন।
প্রদীপ চক্রবর্তী, কলকাতা: ভারতের থেকে একদিন আগে স্বাধীন হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু, দুই দেশ হেঁটেছে দুই রাস্তায়। ভারত উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেছে। পাকিস্তান কাশ্মীর দখল করতে হানাদারদের সুপারি দিয়েছে। ভারত শ্বেত বিপ্লব, সবুজ বিপ্লব করেছে। পাকিস্তান উন্নয়নকে শিকেয় তুলে একের পর এক যুদ্ধের অস্ত্র কিনে গিয়েছে। এখন পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মই প্রশ্ন তোলে। আমাদের চাষের জমি শুকিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। নদীতে জল নেই। জ্বালানির দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। যুদ্ধের সরঞ্জাম আর পরমাণু বোমা দিয়ে কী হবে?
এই অস্থির সময়ে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ক্ষণেকের শান্তি দিতে পারে বাংলাদেশ। পদ্মাপাড়ে আমাদের প্রতিবেশিরাও সিন্ধুপাড়ের প্রতিবেশীদের পাশেই হাঁটতে চলেছে। চিনের থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। একটা-দুটো নয়। কুড়িটা। খরচ বাংলাদেশের মুদ্রায় আটাশ হাজার কোটি টাকা।
শিবঠাকুরের আপন দেশে আইনকানুন সর্বোনেশে বলে শুনেছিলাম। বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি কে জানত। কেনা হবে যুদ্ধবিমান। তা জানা যাচ্ছে তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের থেকে। সামরিক উপদেষ্টার থেকে নয়। বাংলাদেশের দাবি, অপারেশ সিঁদুরে নাকি এই যুদ্ধবিমানের উপযোগিতা দেখেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের নেতাদের মাথাতেও লোডশেডিং হয়েছে। কিন্তু, ডিসকভারির সাম্প্রতিক ডকুমেন্টারি তারা দেখেননি। তাঁরা এখনও পাকিস্তানের বিমান ধ্বংসের দাবিকে সত্যি বলে ধরে রেখেছেন। যা পাকিস্তানের মানুষই এখনও বিশ্বাস করছেন না। চিনের গ্লোবাল টাইমস কয়েকদিন আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মিশরের এক যৌথ মহড়ায় নাকি চিনের J সিরিজের বিমানের সঙ্গে রাফালের সরাসরি লড়াই হয়েছে।
তার মানে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাক-ভারত বিমানযুদ্ধই হয়নি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের বিমানগুলিতে সত্তর কিলোমিটারের বেশি দূরপাল্লার মিসাইলই ইনস্টল করা নেই। তুলনায় ভারতীয় বিমানের মিসাইলের পাল্লা তিনশো কিলোমিটারের বেশি। তা পাকিস্তান অপারেশন সিঁদুরে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। মানে কোনওভােই পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর পক্ষে ভারতীয় বিমান ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না। কারণ ভারত পাকিস্তানের বিমানের পাল্লার বাইরে ছিল। অর্থাৎ একটা মিথ্যের বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশ কিছু চায় না মাল কিনছে। কুড়িটা যুদ্ধবিমান মানে এক স্কোযার্ডন।
বাংলাদেশের মতো ছোট বিমানবাহিনীর পক্ষে মন্দ নয়। বাংলাদেশ কোন যুদ্ধবিমান কিনছে। চিনের J সিরিজের 10CE যুদ্ধবিমান। সিঙ্গল ইঞ্জিন। নির্মাতাদের দাবি, যুদ্ধবিমানের উপযোগিতা অনেক। কী করে বুঝবেন? চিন ভিয়েতনামের পর কারও সঙ্গে যুদ্ধ লড়েনি। আর এই বিমান একমাত্র রয়েছে পাকিস্তানের কাছে। পাকিস্তানের অপারেশন সিঁদুরে কী ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছে তা সকলের জানা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রয়োজন কী? এটা তো শখ করে গাড়ি কেনার মতো বিষয় নয়।
বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত। একদিকে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের এক স্কোয়ার্ডন বিমানবাহিনী রাখার প্রয়োজন কী? যুদ্ধ যদি লড়তে হয়, বাংলাদেশ কার বিরুদ্ধে লড়বে? যদি ভারতকেই শত্রু হিসেবে ধরে নেওয়া হয়? ভারতের ড্রোন ও মিসাইলের বাহিনীকে তো কুড়িটা চিনা বিমান দিয়ে ঠেকানো যাবে না। নাকি বিমান দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকেই ঠকাচ্ছে না তো তারেক রহমান সরকার? পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা কী করেন? ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জিগির বজায় রেখে পাকিস্তানকে দিয়ে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রশস্ত্র কেনানো হয়। সেই অস্ত্র কিনতে গিয়ে পাকিস্তানের ঋণ হয়। আর অস্ত্রের কাটমানির টাকায় সেনাপ্রধানরা ইউরোপ-আমেরিকায় সম্পত্তি কেনেন। ছেলেমেয়েকে বিদেশের স্কুলে পড়ান।
টিম তারেক রহমানের এমন কোনও পরিকল্পনা থাকলে তাঁরা চিনা যুদ্ধ বিমানের একটা স্কোযার্ডন কিনে রাখতেই পারেন। দেশবাসীর সামনে মূলো ঝুলিয়ে রাখার জন্যে। বাংলাদেশের মানুষও হয়তো খেয়াল করে দেখবেন না, যে যুদ্ধবিমান উড়বে কী করে? জ্বালানিই তো নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে ভারতের কাছে জ্বালানি চেয়েছে বাংলাদেশ। তারা যুদ্ধবিমান কিনছে? নাকি এই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিটাই একটা ধোঁকা।
বাংলাদেশকে বিক্রি করার নাম করে চিনই বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর শাখা খুলছে না তো? কাগজে কলমে দেখানো হল, বাংলাদেশ যুদ্ধবিমান কিনছে। কিন্তু, আসলে চিনই বাংলাদেশকে নিজেদের বিমানঘাঁটি বানিয়ে ফেলল। রংপুরের কাছে লালমণির হাট ঘাঁটিটা নিয়ে এমনিতেই সন্দেহ ছড়িয়েছে। চিন যদি এর মধ্যে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই ভারতীয় গোয়েন্দারা সক্রিয় হবেন। না হলে তাঁরা কি বাংলাদেশকে খুব বেশি গুরুত্ব দেবেন?
