H-1B হল আমেরিকার এমন একটি ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে শিক্ষিত এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকরির জন্য আমেরিকায় নিয়ে আসতে পারে। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ-নির্ভর ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ভারত ও চিনের পেশাদারদের জন্য এই ভিসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদার মার্কিন সংস্থায় কাজ করার সুযোগ পেলে, তিনি এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই আমেরিকায় যেতে পারেন।
এখন ১ লক্ষ ডলারের ফি-র কী হল?
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালে H-1B ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের ফি ধার্য করার নির্দেশ জারি করেছিল। এই নির্দেশ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন সেটি আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে H-1B সংক্রান্ত ফি প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে ছিল বলে জানা যায়। নতুন ব্যবস্থায় ১ লক্ষ ডলারের এই অঙ্কটি বিপুল বৃদ্ধি। যদিও এই ফি নিয়ে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমেরিকার একটি আদালত এটিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে সরকারকে ফি আদায় করতে নিষেধ করেছিল। এখন এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসন H-1B নিয়ে এতটা কঠোর কেন?
নতুন নির্দেশে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে, কিছু সংস্থা এবং আউটসোর্সিং কোম্পানি H-1B ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে কম বেতনে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, H-1B ভিসাধারী কর্মীরা কিছু শিল্পক্ষেত্রে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় বছরে ৯,০০০ থেকে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত কম বেতন পেতে পারেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, কম বেতনের কর্মীরা আমেরিকানদের চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন।
নির্দেশে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ৮ লক্ষ থেকে ১৩ লক্ষ মার্কিন কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন, অন্যদিকে সংস্থাগুলি বিপুল সংখ্যক H-1B কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হল, কিছু সংস্থা চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়া মার্কিন কর্মীদের দিয়ে তাঁদের বিদেশি বিকল্প কর্মীদের প্রশিক্ষণ পর্যন্ত করিয়েছে।
সংস্থাগুলি এতে একমত নয়:
H-1B ব্যবস্থা নিয়ে সংস্থা এবং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলির মত আলাদা। তাদের বক্তব্য, আমেরিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত দেশের অভ্যন্তর থেকে পূরণ করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে H-1B ভিসা সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রতিভা পেতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, বিতর্কের মূল প্রশ্ন হল, H-1B কি আমেরিকানদের চাকরি বিদেশি কর্মীদের দিয়ে দিচ্ছে, নাকি মার্কিন সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞের ঘাটতি পূরণ করছে?
ভারতীয়দের উপর কী প্রভাব পড়বে?
H-1B ব্যবস্থা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাদার মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ-নির্ভর চাকরিতে কাজ করেন। ১ লক্ষ ডলারের ফি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংস্থাগুলির জন্য বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব সংস্থাগুলির নিয়োগ এবং সম্প্রসারণের পরিকল্পনার উপর পড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি সংস্থাগুলিকে আমেরিকায় H-1B কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় নিয়োগ বাড়াতে হয়, তাহলে ভারতীয় এবং অন্যান্য বিদেশি পেশাদারদের জন্য আমেরিকায় চাকরির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বড় প্রযুক্তি সংস্থা ভারতে তাদের কাজের পরিধি বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।