নয়াদিল্লি: ভিন্গ্রহীদের অস্তিত্ব আড়াল করার অভিযোগ আজকের নয়। এবার বিতর্ক উস্কে দিলেন প্রথম সারির UFO হুইসলব্লোয়াররা। ভিন্গ্রহী এবং ভিন্গ্রহীযান নিয়ে অনেক কিছু সম্পর্কে অবগত তাঁরা। সেই সব তথ্য প্রকাশ করতে চান বলে একযোগে সরব হয়েছেন। জানিয়েছেন, আমেরিকা সরকার নন ডিসক্লোজ়ার চুক্তির মাধ্য়মে তাদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে। ওই চুক্তির বেড়াজাল থেকে মুক্তি চান তাঁরা। ভিন্গ্রহীদের নিয়ে যা জানেন, তা প্রকাশ্যে আনতে চান। (UFO Whistleblowers)
ডিলান বোরল্য়ান্ড, ডেভিড গ্রুশ এবং ম্যাথু ব্রাউন UFO হুইসলব্লোয়ার হিসেবেই পরিচিত। ভিন্গ্রহীদের অস্তিত্ব, পৃথিবীর আকাশে ভিন্গ্রহীযানের আনাগোনা সম্পর্কে তাঁরা বিশেষ ভাবে অবগত। আমেরিকার সরকারের হয়ে সেই নিয়ে কাজও করেছেন। এবার একসঙ্গে তথ্য় প্রকাশ করতে চেয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, গোপনীয়তা রক্ষা চুক্তিতে তাঁদের বেঁধে রেখেছে আমেরিকার সরকার। যে কারণে কিছু বলতে পারছেন না তাঁরা। কিন্তু তাঁরা সকলের সামনে সত্য তুলে ধরতে চান। (UFO-Alien Files)
তথ্য প্রকাশের দাবি সরব চিত্রনির্মাতা জেন ফক্সও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। নিউ ইয়.র্ক পোস্টকে বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথম, গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্যে সরকারকে আবেদন জানানো হচ্ছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে। ওঁদের গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি থেকে মুক্তি দিন, নিরাপত্তা দিন, যাতে আমেরকার নাগরিকদের সামনে সবকিছু তুলে রতে পারেন ওঁরা। মহাবিশ্বে যে আমরা একা নই, তা জানার অধিকার রয়েছে সকলেক। নামী হুইসলব্লোয়াররা সত্য জানাতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট রক্ষাকবচ দিলেই হল।”
হুইসলব্লোয়ার ম্যাথু আমেরিকার প্রতিরক্ষা কনট্র্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। এ বছরের গোড়ায় Weaponized Podcast-এ মুখ খোলেন তিনি। জানান, Immaculate Constellation নামের একটি গোপন সরকারি প্রকল্প রয়েছে। ভিন্গ্রহীযান বা UFO নিয়ে সব স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় তাতে। ম্যাথু বলেন, “গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে সই করানো হয়েছে আমাকে। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য নিয়ে কিছু বলার অনুমতি নেই আমার। সরকার অনুমোদন দিলে তবেই বলতে পারব। সারাজীবনের জন্য ওই চুক্তির দ্বারা বেঁধে ফেলা হয়েছে আমাকে।”
সরাসরি ট্রাম্পের উদ্দেশে বার্তা দেন ম্য়াথু। তাঁর বক্তব্য, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারবেন, সমগ্র মানবজাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। শুধু সত্যটা খোলসা করতে হবে যে আমরা একা নই।”
আমেরিকার ন্যাশনাল জিওস্পেশাল ইনটেলিজেন্স এজেন্সি অ্যান্ট ন্যাশনাল রেকনেস্যান্স অফিসের প্রাক্তন ইনটেলিজেন্স অফিসার তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক ডেভিড ২০২৩ সালে আমেরিকার কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্যদান করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দশকের পর দশক ধরে UFO-র ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের প্রকল্প চালিয়ে আসছে আমেরিকার সরকার। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম Fox-এর মাধ্যমে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, আমারা প্রস্তুত। আপনি অনুমতি দিন।”
আরও পড়ুন: এবার AI Force আনছে আমেরিকা, ঝুঁকি মানতেই নারাজ ট্রাম্প, বড় ঘোষণা করলেন
ডেভিডের দাবি, তিনি যা দেখেছেন, তা চমকে দেবে সকলতে। তাঁর বক্তব্য, “উদ্ধারকার্যের ছবি-ভিডিওতে ভিন্গ্রহী যান, মানুষ নয় এমন আরোহীদেরও দেখা মেলে। আমি নিজের চোখে দেখেছি। হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরতে প্রস্তুত আমি। অনুমতি পেলে সর্বসমক্ষে তুলে ধরব সবকিছু।”
ডিলানও আমেরিকার বায়ুসেনার প্রাক্তন আধিকারিক। ২০২৪ সালে কংগ্রেসে সাক্ষ্যদান করেন তিনি। জানান, NASA-র হ্যাঙ্গারের উপর ত্রিভূজের আকারের একটি UFO ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন তিনি। বেশ কয়েক মিনিট ঘোরাফেরার পর সেটি আকাশে মিলিয়ে যায়। তিনিও জনসমক্ষে সব তুলে ধরতে আগ্রহী। কিন্তু সরাসরি ট্রাম্পের কাছ থেকেই অনুমোদন আসতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুমতি দিতে হবে ওঁকে এগিয়ে আসতে হবে, জানাতে হবে যে আমরা একা নই।” নিজের দাবির সপক্ষে জৈবিক প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিলান।
ডিলান, ডেভিড এবং ম্যাথুর পাশে দাঁড়িয়েছেন রিপ্রেজেন্টেটর এরিক বার্লিসন। তাঁর মতে, আধুনিক যুগের সর্বোত্তম শাসক হতে গেলে সত্যের পাশে দাঁড়ানো উচিত ট্রাম্পের। শুধুমাত্র একটি নথি প্রকাশ করলেই অনেক কিছু বোঝা যাবে বলে দাবি তাঁর।
ক্ষমতায় আসার পর ‘এলিয়েন ফাইলস’ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত রহস্যজনক বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে আণেরিকার তরফে। তবে যে কয়টি নথি প্রকাশ করা হয়েছে, সরকারের মাধ্যমেই করা হয়েছে। তবে অনেক কিছুই গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।