দিল্লি: আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন এই মুহূর্তে শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআইআর বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন দুই নির্বাচন কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। গত ১০ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তে ১৪ বার আপত্তি দায়ের করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলা নিয়ে আপত্তি জানান ২ নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার কোনও কথা শোনেন নি। বাকি ২ জনের সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আর এই বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধীপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা। যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। (Election Commission Rift)
নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান সিদ্ধান্তগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আরও দুজন নির্বাচন কমিশনারের একটি প্যানেল দ্বারা গৃহীত হয়। কিন্তু SIR-এর ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী, আপত্তি তুলেছিলেন এই বিষয় নিয়ে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের আপত্তিগুলোকে উপেক্ষা করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।
এই ঘটনা নিয়ে কী জানাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ?
এই ঘটনা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মতভেদ গণতন্ত্রের অংশ, কিন্তু SIR-সহ নির্বাচন কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে। সমস্ত সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার ও ২ নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, বিশেষ করে জ্ঞানেশ কুমারের দফতর সূত্রে খবর, গত দুই বছরে নির্বাচন কমিশন শুধু এক-দুটি নয়, বরং কয়েক ডজন, এমনকি ১০০টিরও বেশি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে প্রায়শই অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা যায়, কিন্তু এরপর প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য থাকতেও পারে, এবং বাস্তবে তা থাকতেও পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সিদ্ধান্তটি একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছিল। গৃহীত যেকোনও সিদ্ধান্তই ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং এতে তিনজন নির্বাচন কমিশনারই স্বাক্ষর করেছেন।
কোন কোন বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল সান্ধু এবং জোশীকে ?
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র রিপোর্ট বলছে, কোন কোন বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, তাও তুলে ধরেন সান্ধু এবং জোশী। তাঁরা অভিযোগ SIR-এর বহু বিষয়ে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বহু ক্ষেত্র। তাঁদের অন্ধকারে রেখেই নির্দেশ জারি করে দেওয়া হয়। দাবি –
১. অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া এবং নতুন নাম যুক্ত করা নিয়ে কোনও কিছুই জানানো হয়নি তাঁদের।
২. ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রে যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তা ‘অননুমোদিত’ এবং ‘বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করেন।
৩. রাজ্যের আধিকারিকদের পাশ কাটিয়ে, সর্বশেষ সিদ্ধান্ত না জানিয়েই ভোটারদের তথ্য় কেন্দ্রীভূত করা হয় দিল্লিতে।
৪. ভোটার সংক্রান্ত সফ্টওয়্যারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সান্ধু এবং জোশী। জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে একমত হতে পারেনিন তাঁরা। সেই নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দ্বারস্থও হন তাঁরা।
বিরোধীদের কী দাবি ?
সংবাদ পত্রের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশ কুমারকে এক হাত নিলেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল বলেন, ‘নিজের ইচ্ছামতো একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বেআইনি কাজ করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যের ভোট রদ করতে হবে।’ মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, লেখেন, ‘পাঁচ মাস আগে, ৬০ জনের বেশি রাজ্যসভা সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে চিঠি দেন চেয়ারপার্সনকে। আজকের এই খবরের পর রাজ্যসভায় ফের প্রস্তাব আনার সময় হয়েছে’।
সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব লেখেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ খবর এটা। ১৪ বার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দুই কমিশনার। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতাশালীদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করা সাংবিধানিক অপরাধ। এটা গণতন্ত্রকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু নয়। সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন’।
Kunal Ghosh: “এই গুন্ডা রাজনীতি, গুন্ডারাজ এভাবে চলতে পারে না…”, প্রতিক্রিয়া কুণালের
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)