রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত জলের অংশ বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টাকে “যুদ্ধের কাজ” হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর পরেই ভারতের পক্ষ থেকে এই জবাব আসে।
পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে গেহলট ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ৯/১১ হামলার মূল চক্রী পাকিস্তানের প্রধান সামরিক অ্যাকাডেমির কাছে বসবাস করতেন।
গেহলট বলেন, “আজ পাকিস্তানের প্রতিনিধি সেই একই সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করতে কোনও কসুর রাখেননি।” তিনি পাকিস্তানের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে দাবিও প্রশ্নের মুখে ফেলেন। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের দেশের মানুষের হাত থেকে সরকারকে রক্ষা করতে পাকিস্তানের সরকার একটি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কাজ করছে।
গেহলট পাকিস্তানের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীরও উল্লেখ করেন এবং যাঁকে তিনি দেশের “প্রকৃত শাসক” হিসেবে বর্ণনা করেন, তাঁকে আজীবন আইনি রেহাই দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান দিনের বেলা নিরাপত্তার কথা বলে, আর রাতে সন্ত্রাসবাদ চালায়।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয়, তা গোটা বিশ্ব জানে।” তিনি আরও বলেন, “মিষ্টি এবং প্রতারণামূলক কথায়” আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
ভারত: জম্মু ও কাশ্মীর ‘অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ড’:
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে গেহলট এই অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তানের উল্লেখ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ড অংশ এবং চিরকাল তাই থাকবে।”
পিওকে-তে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হলে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরকেও সেই আলোচনায় আনা উচিত। গেহলট বলেন, “রাওয়ালাকোটের মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা যে হত্যাকাণ্ড, হিংসা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, সে সম্পর্কে।”
‘সন্ত্রাসবাদীদের লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা থাকবে না’:
গেহলট বলেন, মূল সমস্যা এখনও পাকিস্তানের “দীর্ঘদিনের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নীতি”।
তিনি বলেন, “গত বছর আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে সন্ত্রাসবাদীদের জন্য কোনও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে এবং ভারত সেই অধিকার প্রয়োগ করবে।
গেহলট বলেন, “পাকিস্তানের দিক থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে এতদিন ধরে বন্ধুত্ব এবং সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কও প্রভাবিত হতে পারে।
‘মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করলে তা সত্য হয়ে যায় না’:
ভারত বলেছে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ পাকিস্তান এবং তার নীতিগুলিকে তাদের প্রতিনিধির করা দাবির ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে বলে ভারত আত্মবিশ্বাসী।