মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আইওয়ায় তৈরি হতে চলা এই কারখানায় বছরে সর্বোচ্চ ১ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করা হবে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে মেসাবি মেটালিক্স আমেরিকার ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরি করতে চলেছে মহান আইওয়া অঙ্গরাজ্যে। এটি বৃহত্তম কারখানা, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কারখানা, তবে আমেরিকায় এটি নিঃসন্দেহে বৃহত্তম কারখানা।”
ট্রাম্পের মতে, এই প্রকল্পের ফলে সর্বোচ্চ ৬,০০০টি নির্মাণকাজের কর্মসংস্থান এবং প্রায় ২,০০০টি স্থায়ী উৎপাদন ও খননকাজের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
মিনেসোটার খনি থেকে আইওয়ার ইস্পাত কারখানা:
এই প্রকল্পে মিনেসোটার একটি নতুন খনি থেকে লৌহ আকরিক ব্যবহার করা হবে। এর ফলে খনন থেকে ইস্পাত উৎপাদন পর্যন্ত একটি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
মেসাবি মেটালিক্সের চেয়ারম্যান রেওয়ান্ত রুইয়া জানান, মিনেসোটার লৌহ আকরিকের খনিতে তাঁর পরিবার প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। বৃহত্তর এই বিনিয়োগকে তিনি “সত্যিকারের ঘরে ফেরার” সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ট্রাম্প জানান, ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই খনিই হবে আমেরিকায় তৈরি হওয়া প্রথম নতুন লৌহ আকরিকের খনি।
ট্রাম্প বলেন, “অন্য কথায়, এই ইস্পাত আমেরিকাতেই খনন করা হবে, গলানো হবে এবং তৈরি করা হবে, যা খুবই অস্বাভাবিক একটি বিষয়।”
কারখানাটি তৈরি করতে প্রায় এক দশক সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সদস্যরা এই বিনিয়োগের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যনীতির যোগসূত্রের কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে আমদানি করা স্টিলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কও রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, এই শুল্ক না থাকলে “এই খনি তৈরি হতো না এবং এই ইস্পাত কারখানাও তৈরি হতো না।”
ট্রাম্প বলেন, সংস্থাগুলি আমেরিকায় উৎপাদন করতে চাইছে, কারণ তারা আমদানির উপর শুল্ক দিতে চায় না।
প্রকল্পটির অর্থায়ন বেসরকারিভাবে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক মিনেসোটার খনিটির অর্থায়নে সহায়তা করেছে।
আমেরিকায় উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এসার:
শশী রুইয়া এবং রবি রুইয়া দুই ভাই এসার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এই গোষ্ঠীর ইস্পাত, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা রয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে এসার মিনেসোটায় ব্যবসা পরিচালনা করছে। সেই সময় তারা মিনেসোটা স্টিল এবং সংস্থাটির লৌহ আকরিকের সম্পদ অধিগ্রহণ করেছিল।
এসারের ভারতীয় ব্যবসার মধ্যে গুজরাতের হাজিরায় ১ কোটি টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইস্পাত কারখানা রয়েছে। এছাড়াও, এই গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ব্রিটেনের স্ট্যানলো রিফাইনারি রয়েছে এবং সৌদি আরবে একটি কম-কার্বন ইস্পাত প্রকল্পের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।