Last Updated:
সাধারণ চায়ের দোকানদার হলেও তাঁর মনে লুকিয়ে আছে এক শিল্পীর স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর টান, বিশেষ করে সাঁওতালি গান তাঁর খুব প্রিয়।
বাঁকুড়া: খাতড়া বাজার লাগোয়া কুরকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা সনৎ মুর্মু। পেশায় সাধারণ চায়ের দোকানদার। প্রতিদিন খাতড়া শহরের এসডিও মোড়ে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়েই সংসার চলে তাঁর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খদ্দের সামলানো, চা তৈরি করা আর সংসারের নানা দায়িত্ব—এই ব্যস্ততার মাঝেই কোথাও যেন চাপা পড়ে থাকে তাঁর আর এক পরিচয়। তিনি একজন গানের মানুষ। বিশেষ করে সাঁওতালি গান তাঁর প্রাণের কাছাকাছি।
ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর টান সনতের। অন্য অনেকের মতো তাঁর কাছেও গান শুধু বিনোদন নয়, মনের কথা বলার এক মাধ্যম। সুযোগ পেলেই সাঁওতালি গান করেন তিনি। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় কখনও গলা ছেড়ে গান ধরেন, আবার কখনও নিজের মনেই গুনগুন করে ওঠেন। তাঁর কণ্ঠে সাঁওতালি গানের স্বাভাবিক আবেগ ও মাটির গন্ধ খুঁজে পান পরিচিতরা।
তবে প্রতিভা ও ভালোবাসা থাকলেই যে স্বপ্ন পূরণ হয়, সনতের জীবন যেন তার উল্টো কথাই বলে। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন তাঁকে দীর্ঘ সময় চায়ের দোকানে কাটাতে হয়। ফলে নিয়মিত গান শেখা বা সঙ্গীতচর্চার জন্য আলাদা করে সময় বের করা হয়ে ওঠে না। সনৎ মুর্মুর কথায়, “আমি সময় জোগাড় করতে পারি না। কাজ করতে করতে আর সঙ্গীতচর্চা করা সম্ভব হয় না।” সংসারের দায়িত্ব, আয়ের অনিশ্চয়তা এবং প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও অবশ্য গানকে পুরোপুরি ছেড়ে দেননি তিনি। কাজের ফাঁকে কিংবা মন খারাপের মুহূর্তে সাঁওতালি গানের সুরই হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী।
সনৎ মুর্মুর গল্প শুধু একজন চা-ওয়ালা গায়কের গল্প নয়। সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে প্রতিভা রয়েছে, রয়েছে স্বপ্নও, কিন্তু সুযোগ ও সময়ের অভাবে সেই প্রতিভা বড় মঞ্চে পৌঁছতে পারে না। খাতড়ার এই সাঁওতালি গায়কও তাই নিজের ছোট্ট চায়ের দোকানের মধ্যেই বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন। হয়তো কোনও একদিন তাঁর কণ্ঠস্বর পৌঁছে যাবে আরও অনেক মানুষের কাছে—সেই আশাতেই প্রতিদিন চা বিক্রির পাশাপাশি সুরের জগতে বেঁচে থাকেন সনৎ মুর্মু।
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়