কলকাতা: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) মানেই, ছকভাঙা ভাবনা। পাশাপাশি, কাস্টিংয়েও চমক! আর এবার, কৌশিকের পরিচালনাতেই, পর্দা ভাগ করে নেবেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) আর রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তাঁরা ছাড়াও এই ছবির মুখ্যভূমিকায় থাকছেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় (Churni Ganguly) এবং রজতাভ দত্ত (Rajatabha Dutta)। পুজোর পরেই এই ছবির শ্যুটিং শুরু হওয়ার কথা। কলকাতা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে হবে সিনেমার শ্যুটিং। আজ প্রকাশ্যে এসেছে, এই ছবিতে ৪ মুখ্য অভিনেতা অভিনেত্রীর প্রথম লুক। একেবারে অচেনা লুকে ধরা দিয়েছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। চমক রয়েছে অনির্বাণের লুকেও।
ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে কী বললেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়?
এই ছবির নাম, ‘তারপর’। কেন ছবির এই নাম? বিষয়বস্তুই বা কী? ছবির পরিচালক, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ‘আজ আমাদের যে পোস্টারটি মুক্তি পেয়েছে, সেটাকে যদি মানুষ উল্টো করে দেখেন, দেখবেন গোটা ছবিটাই উল্টে গিয়েছে। ক্যাপশানেও রয়েছে, ‘জীবনটাকে উল্টে পাল্টে দেখুন।’ পোস্টারের মতো, এই বিভ্রান্তি কিন্তু আমাদের বাস্তবেও হয়। আমরা যেটাকে আসল মনে করি, সেটা হয়তো একটা প্রতিচ্ছবি। আসলটা হয়তো সম্পূর্ণ উল্টো। সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতি, বিভিন্ন পেশা, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি থেকে যদি কয়েকটি মানুষকে একটা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাতে হয়, তারপরে কী হতে পারে, সেটা নিয়েই আমার আগামী ছবি। আসলে পরিচালক হিসেবে, যে ধরণের ছবি তৈরি করার খিদে থাকে আমার, এই ছবি ঠিক তেমন। আসলে কিছু সময়ে বিনোদনের কথা ভাবতে গিয়ে, ছবির মধ্যে ততটা বুদ্ধিমত্তা থাকে না। কিন্তু বিনোদন আর বুদ্ধিমত্তা পাশাপাশি চললেও মানুষ তাকে ভালবাসেন। ঠিক যেভাবে মানুষ ভালবেসেছেন ‘নগর কীর্তন’ বা ‘ছোটদের ছবি’-র মতো ছবিকে।’
ছবিতে অনির্বাণকে কাস্ট করা প্রসঙ্গে কৌশিক
‘ব্যান’ কাটিয়ে ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। পুজোর সময়ে মুক্তি পাচ্ছে, তাঁর অভিনীত, ‘দেশু7’ (DeSu7)। পুজোর সময়ে ‘হুলিগানইজম’-এর অনুষ্ঠানের কারণে দেশের বাইরে থাকবেন অনির্বাণ। ফিরে এসে, শুরু করবেন শ্যুটিং। অনির্বাণকে এই ছবিতে কাস্ট করার পরিকল্পনা কেন করেছিলেন কৌশিক? পরিচালক বলছেন, ‘এই ছবিটা যখন পরিকল্পনা করেছিলাম, তখনই বিশেষ এই চরিত্রটার জন্য অনির্বাণকে ভেবেছিলাম। তখন সেই কথা ওকেও বলেছিলাম। বলেছিলাম, ‘যদি এই ছবিটা হয়, তাহলে তুমিই অভিনয় কোরো। আশা করি তখন আর ব্যান থাকবে না।’ ঠিক সেটাই হল। অনির্বাণকে ছাড়া এই ছবি হয়তো পরিপূর্ণ হত না।’ একটু থেমে কৌশিক ফের বললেন, ‘অনির্বাণ বয়সে আমার থেকে ছোট, কিন্তু ওকে আমি শ্রদ্ধা করি। একটা সময়ে আমরা সবাই লড়াই করেছিলাম, কাজ করতে আমারও সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু আমরা অনেকেই ধীরে ধীরে সেই লড়াইটা থেকে সরে এসেছি। অনির্বাণ শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। এই শিরদাঁড়া সোজা রেখে লড়াইটা যে ও লড়তে পেরেছে, তার জন্য ওকে কুর্ণিশ।’