ওমানের ওই নাগরিককে পরে ফ্লাইদুবাইয়ে নিয়োগ করা হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর হামলার সময় তিনি দুবাই-তেল আভিভ রুটের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ওমান ওই পাইলটকে নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা অন্য কোনও দেশ বা এয়ারলাইনকে জানিয়েছিল কি না, তা তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি। ওই পাইলট কীভাবে ‘উগ্রপন্থায়’ প্রভাবিত হয়েছিলেন, তার প্রকৃতিও স্পষ্ট নয় বলেও জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, কো-পাইলটটি তাঁর ভাষায়, “ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শগত প্ররোচনার” মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।
কো-পাইলটকে ‘নিরাপত্তার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল:
এবিসি নিউজও পৃথকভাবে, শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা ও আইনপ্রয়োগকারী আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, কো-পাইলটকে এর আগে ওমান এয়ারে উড়ান চালানো থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ তাঁকে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এবিসি নিউজের উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে কো-পাইলট ট্রেনি হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে উগ্রপন্থী বিষয়বস্তু পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে ওই এয়ারলাইনে প্রশাসনিক পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবেদনগুলির পর প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে ওই কো-পাইলটকে পরে ফ্লাইদুবাইয়ের হয়ে উড়ান চালানোর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে তিনি ইজরায়রমুখী যাত্রীবাহী একটি বিমানের ককপিটে পৌঁছেছিলেন।
এবিসি নিউজের উদ্ধৃত সূত্রগুলি আরও জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তরিত করার পর ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। তিনি নাকি ইজরায়েলে বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত অব্যাহত:
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে এবং ইজরায়েলি তদন্তকারীরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ কো-পাইলটের অতীত, ককপিটে হামলার পরিস্থিতি এবং তিনি একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন কি না বা তাঁর সঙ্গে বাইরের কোনও ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েলের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তদন্ত এখনও ঘটনার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে উড়ানটি চলছিল। ক্যাপ্টেনের উপর হামলার পর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রী এবং ক্রুরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন, যার ফলে সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয়।