নয়াদিল্লি: সাধ্য়ের মধ্য়ে ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে পার্কিং মেলে না। ফলে পরবর্তীতে গাড়ি কিনলে আলাদা করে গ্যারেজের ব্যবস্থা করতে হয়। ভারত বলেই নয়, অন্য দেশেও এই সমস্যা রয়েছে। তবে অনেক আগেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন এক মহিলা। তাই যখন রিয়েল এস্টেট নিয়ে তেমন মাথাও ঘামাতেন না লোকজন, সেই সময় থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পার্কিংয়ের জায়গা কিনতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সেই সিদ্ধান্তের সুফল পাচ্ছেন হাতেনাতে। (Viral News)
ভারতের পড়শি দেশ চিনের হুনান প্রদেশ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, ওই মহিলার পদবী Wu. জানা গিয়েছে, প্রায় এক দশক আগে হুনানের চাংসায় একটি রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটি গড়ে ওঠে। সেই সময় চাংসায় প্রায় কিছুই ছিল না। না ছিল দোকান-বাজার, না ছিল স্কুল-কলেজ, বাস-ট্রেন। তাই ওই সময় সেখানে বাড়ি বা সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী ছিলেন না কেউ। (China News)
কিন্তু ওই সময়ই ভবিষ্যৎ টের পেয়েছিলেন Wu. নয় নয় করে ১৯৬টি পার্কিং স্পেস কিনে ফেলেন তিনি। খরচ পড়ে ২ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৯ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। সময়ের সঙ্গে চেহারা বদলাতে শুরু করে চাংসার। বর্তমানে কার্যত তিলধারণের জায়গা নেই। ফলে বাড়ির পাশাপাশি, পার্কিংয়ের চাহিদাও বেড়েছে উত্তরোত্তর। নিজের কেনা পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়েই এখন ফুলেফেঁপে উঠেছেন ওই মহিলা।
Hunan TV জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ওই রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটির কাজ সম্পূর্ণ হয়। আদৌ কেউ সেখানে বসবাস করবেন কি না, সেই সময় সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। সেই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন Wu. ওই এলাকায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানেন বিশদে। এর পরই সেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৬টি পার্কিং স্পেস বাবদ একবারেই ১৯ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দেন। ওই রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটিতে যত পার্কিং স্পেস ছিল, তার ৪০ শতাংশের মালিকানা পেয়ে যান তিনি।
Wu-র বিশ্বাস ছিল, সরকারি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটলে চাংসার রূপরেখাই বদলে যাবে। বাস্তবে ঠিক তেমনটাই ঘটে। গত এক দশকে একেবারে বদলে গিয়েছে ওই এলাকা। বাড়িঘর, দোকান-বাজার, শপিং মল- বাকি নেই কিছুই। জনসমাগম ঘটতে দেখেই নিজের পার্কিং স্পেসগুলি ঘিরতে শুরু করেন Wu, যাতে বিনা অনুমতিতে কেউ ব্যবহার করতে না পারেন। ধীরে ধীরে গ্যারেজ ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব আসতে শুরু করে। প্রথমে গ্যারেজ পিছু মাসে ৭২৫৮ টাকা ভাড়া নিতেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে ভাড়া কমিয়ে পরবর্তীতে ৪৩৩৪ টাকা করা হয়।
এর পর, একচা সময় পর নিজের পার্কিং স্পেসগুলি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন Wu. প্রত্যেক পার্কিং স্পেসের দাম রাখেন ১৪ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা করে (প্রায় ২৮.৫ কোটি)। অর্থাৎ কেনা দামের চেয়ে প্রায় অনেক বেশি। সেই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ঝামেলা বাধে তাঁর। রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিটিতে পার্কিং স্পেসের উপর এমন একচেটিয়া আধিপত্যের বিরোধিতা করেন সকলকে। মামলা গিয়ে পৌঁছয় আদালতে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের রায় Wu-র পক্ষেই যায়। আদালত জানায়, পার্কিং স্পেসগুলি যখন বিক্রি হচ্ছিল, অন্য়রা কিনতে এগিয়ে যাননি। একা Wu-ই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর সম্পত্তি নিজের ইচ্ছেয় বিক্রি করতেই পারেন। একজন নাগরিক কতগুলি পার্কিং স্পেস কিনতে পারেন, সেই নিয়ে দেশে কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই বলেও জানায় আদালত।