নিহত পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আল-কালথামি। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানবন্দর এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে লক্ষ্য করে চালানো দু’টি হামলায় তিন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। হামলার জেরে রিয়াধে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। বেশ কিছু উড়ান দেরিতে চলেছে, বাতিলও হয়েছে কয়েকটি। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তার কারণে কূটনীতিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক স্কুলগুলিও।
রিয়াধে ক্ষতিগ্রস্ত কিন্ডারগার্টেন, চিকিৎসাকেন্দ্র
সৌদি অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, আকাশে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াধের একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের ক্ষতি করেছে। সংঘাতের আঁচ এবার সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পরিকাঠামোয় পৌঁছনোয় উদ্বেগ বেড়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রিয়াধ বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতকারী উড়ানগুলির জন্য সানার একটি সমন্বয়কারী সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, ওই সংস্থার অনুমোদন পাওয়া উড়ানগুলিকেই রিয়াধ বিমানবন্দরে মানবিক পরিষেবা চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে।
অন্য দিকে, হুথি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের দাবি, সানার বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ইয়েমেনের অসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি হামলার পরে একাধিক জায়গায় আগুন লাগে। একটি কারখানাও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলি পুনর্দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সেই অভিযানে সৌদি বিমানবাহিনীও সহায়তা করছে বলে খবর। গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় এই লড়াই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালী।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইয়েমেনের এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। তবে সংঘর্ষ এখনও তীব্র। উল্লেখযোগ্য এলাকা পুনর্দখল করা যায়নি বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র। হুথি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের দাবি, সরকারি বাহিনীর একটি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামো নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে রিয়াধের দক্ষিণে একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলার পরে সৌদি তেলকেন্দ্রগুলিতে কর্মরতদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।