নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুড়ি গণ্ডকী নদীতে নতুন করে বন্যার জেরে গোর্খা জেলার দুটি ঝুলন্ত সেতু এবং একটি স্টিলের সেতু ভেসে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি। পাশাপাশি, নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি জনবসতিও বিপদের মুখে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লোকপা ও চুমলিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে গিয়েছিল। এর পরেই বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। নদীর তীরবর্তী বসতিগুলিতে আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চুমনুব্রি-৩ এলাকার ন্যাকচেট ও সিরদিবাসের মধ্যে সংযোগকারী একটি পুরনো ঝুলন্ত সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। সিরদিবাসে রাম বাহাদুর গুরুংয়ের একটি মাটির বাড়িও বন্যার জলে ভেসে যায়। তাঁর আরও একটি বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে।
অন্য একটি ঘটনায়, ধরচে গ্রামীণ পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাচ্ছাখোলা থেকে কেরাউজা পর্যন্ত সংযোগকারী একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে ভেসে যায়। পুলিশের দাবি, মাচ্ছাখোলার নিচু এলাকায় পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি এবং প্রায় একই সংখ্যক গোয়ালঘর ও অন্যান্য ছোট ঘরে জল ঢুকে পড়েছে।
এদিকে, ধরচে-৩ এলাকার সালেরিতে প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বিপদের মুখে রয়েছে বলে খবর। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আরুঘাট গ্রামীণ পুরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকারী সোতিতে অবস্থিত স্টিলের সেতুটিও ভেসে গিয়েছে।
এবার হিমবাহ ধস নয় শুকনো ভূমিধস এই দুর্যোগের কারণ। মানাসলু অঞ্চলে একটি শুষ্ক ভূমিধসের ফলে বুড়ি গণ্ডকী নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরে সেই অবরোধ ভেঙে কাদা, পাথর ও বিশাল বোল্ডারসহ এই আকস্মিক বন্যা বা প্লাবন তৈরি করে। তাতেই পরবর্তী কিছু এলাকায় নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই জলের তোড়ে গোর্খা জেলার সল্লেরি বাজার ও জগৎ বাজারের কিছু এলাকা ভেসে গেছে। ৩৫টিরও বেশি বাড়িঘর ভেসে গেছে; কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন
গত ২৬ অগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কয়েক সপ্তাহ পর এই নতুন বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল। সেই সময় দেশের একাধিক জেলায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছিল। বিশেষ করে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অগস্টের সেই বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ১,৪৫৫ জনের মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়েছিল। এখনও নিখোঁজ ৫,২৮৫ জন। সরকারি ভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বর্তমানে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
অগস্টের বিপর্যয়ে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হারান। সেই পরিস্থিতি সামলে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার জেরে উদ্বেগ বাড়ছে।
তিনটি সেতু ভেসে যাওয়ায় গোর্খার বিভিন্ন জনবসতির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, মাচ্ছাখোলায় একাধিক বাড়িতে জল ঢোকা এবং সালেরিতে ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বিপদের মুখে থাকায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুড়ি গণ্ডকী নদীর গতিপথ ধসে আটকে যাওয়াই সাম্প্রতিক বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।