বেন্ড-এর সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজ এবং সিএনএন জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিন শিশু এবং এক প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় “একাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন”, যাঁদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। পাশাপাশি, গুলিচালককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলে পৌঁছয় পুলিশ:
বেন্ড-এর পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ একটি গুরুতর ঘটনার বিষয়ে সতর্কবার্তা পান আধিকারিকরা। এর প্রায় দুই মিনিটের মধ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। সাংবাদিকদের মিলার বলেন, “কয়েক সেকেন্ড পরেই আমরা রেডিওর মাধ্যমে জানতে পারি যে এই ঘটনার অভিযুক্তকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।”
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আধিকারিকদের জানানো হয় যে গুলিচালকের মৃত্যু হয়েছে। তবে কে অভিযুক্তকে গুলি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। মিলার জানান, কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষও অভিযুক্তকে গুলি করে থাকতে পারেন।
বেণ্ড-লা পাইন স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তরফে জানানো হয়েছে, গুলিচালনার ঘটনার পর স্কুলটিকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল।
পড়ুয়াদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন:
পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের বাসে করে অন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান, যেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এই ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেন বেন্ড-লা পাইন স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান।
একটি বিবৃতিতে কুক বলেন, “এই অর্থহীন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত এবং শোকাহত।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যে গভীর শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা প্রকাশ করার মতো কোনও শব্দই যথেষ্ট নয়।
সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। স্কুলটি পোর্টল্যান্ডের প্রায় ১৭০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে বেণ্ড শহরে অবস্থিত। এই গুলিচালনার ঘটনা আমেরিকায় বন্দুকের মাধ্যমে হিংসার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে বারবার গণগুলিচালনার ঘটনা একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।
বন্দুকের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিআইএফএফওআরডিএস (GIFFORDS) এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, “আতঙ্কিত শিশুদের এবং তাঁদের প্রিয়জনেরা নিরাপদে রয়েছেন, এই খবর শোনার আশায় উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করা পরিবারগুলির প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।”
সংগঠনটি আরও বলেছে, “জীবনের অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা হিসেবে আমরা আর এই ধরনের ঘটনাকে মেনে নিতে পারি না।”