কী উদ্দেশ্যে এই ঘোষণা করা হয়েছে?
এর উদ্দেশ্য হল, কোনও বড় বিপর্যয় বা জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পরিবারগুলি ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, তা নিশ্চিত করা। সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকা উচিত। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় ৩ লিটার জলের প্রয়োজন হতে পারে। সেই হিসাব অনুযায়ী, একজনের জন্য তিন দিনে ৯ লিটার জল মজুত রাখা জরুরি।
তিন দিনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকুন:
সরকার নাগরিকদের দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, কৌটোবন্দি খাদ্যসামগ্রী, কম্বল, নগদ টাকা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত টর্চ এবং হাতে চালানো যায় এমন এফএম রেডিও রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারের মতে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা অর্থপ্রদানের পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে এই জিনিসগুলি কাজে আসতে পারে।
নিরাপত্তা প্রতিমন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেছেন, যাঁরা এই পরামর্শ মেনে চলতে পারবেন, তাঁদের অবশ্যই তা করা উচিত। তাঁর মতে, ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারেন।
কেন এমন ঘোষণা করল সরকার?
সরকার নাগরিকদের আবেদন জানিয়েছে, তাঁরা যেন প্রথমে নিজেদের বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করে দেখেন এবং তার পর প্রয়োজন অনুযায়ী সামগ্রী কেনেন। সরকার নাগরিকদের একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কিট তৈরি করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
আসলে সরকারের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে চরম আবহাওয়া, জ্বালানি সংকট বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে জনজীবন ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণেই নাগরিকদের আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
এমনিতেই ব্রিটেনে অস্টিন ঝড়ের কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এই প্রচারাভিযানের প্রসারে সরকার সামাজিক মাধ্যম এবং রেডিওরও সাহায্য নেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ব্রিটেনে একাধিক শক্তিশালী ঝড়ের কারণে হাজার হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
জানুয়ারিতে আছড়ে পড়া গোরেটি (Goretti) ঝড়ের সময় মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের একাধিক এলাকার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের সচেতন করে তুলছে, যাতে তাঁরা সব সময় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকেন।
রাশিয়ার হুমকি ও সাইবার হামলা নিয়ে উদ্বেগ:
অন্যদিকে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, রাশিয়া এবং অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলির সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্যও ব্রিটেনকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারি পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট এবং অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার উপর সাইবার হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ধরনের হামলার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
সম্প্রতি একটি নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি সামনে আসার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটেনের ৩২টি সরকারি ওয়েবসাইট অফলাইন করে দেওয়া হয়েছিল।