হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, গোষ্ঠীটির অভিযান সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিগুলি।
এক্স-এ একটি পোস্টে ইয়াহিয়া সারি বলেন, “ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, মক্কা আল-মুকাররমা এবং মদিনা আল-মুনাওয়াররার পবিত্র এলাকাগুলিতে আমাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি শত্রুপক্ষ যে প্রচার চালাচ্ছে, তা একটি বড় এবং গুরুতর মিথ্যা।”
তিনি আরও বলেন, “এই মিথ্যা ও দাবিগুলি এখন আর কাউকেই বিভ্রান্ত করতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হুথিদের অভিযানগুলি তেল পরিকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলিকেই নিশানা করে চালানো হয়েছিল।
সৌদি আরবের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার খবর জানিয়েছিল। এর পরেই হুথিদের পক্ষ থেকে এই অস্বীকারের বিবৃতি সামনে আসে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়ানবু ও তাইফের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। অন্যদিকে, জেড্ডা, তাইফ ও রাবিগ-সহ একাধিক স্থানে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলনের মধ্যে শত্রুতা তীব্র হওয়ার মধ্যেই পরস্পরবিরোধী এই বিবৃতিগুলি সামনে এসেছে। হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সামরিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানাল সৌদি আরব:
সৌদি আরবের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিহত করা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে। এই দুই অঞ্চলেই ইসলামের পবিত্রতম দুই শহর অবস্থিত এবং প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম তীর্থযাত্রীরা সেখানে যান।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, পশ্চিম সৌদি আরবের ইয়ানবু ও তাইফের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ছাড়া, মক্কা ও জেড্ডা-সহ একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তাও জারি করেছিল অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। কিছুক্ষণ পরেই সেই সতর্কবার্তাগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সৌদির তেল পরিকাঠামোয় হামলার দাবি হুথিদের:
অন্য একটি বিবৃতিতে সারি জানিয়েছেন, হুথি বাহিনী সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনাকে নিশানা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়ানবুতে আরামকোর একটি স্থাপনা, রাবিগ তেল শোধনাগার, অপরিশোধিত তেল পাম্প করার কেন্দ্র এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, নিশানার তালিকায় ছিল দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাজরানের একটি বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়ানবু ও তাইফের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সারির উল্লেখ করা অন্যান্য স্থাপনাগুলিতে হামলা হয়েছে কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলিকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য হুথিরা ফের সতর্ক করেছে। রিয়াধের এই বিমানবন্দরকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে তারা জানিয়েছে, বিমানবন্দরটি ব্যবহার করা নিরাপদ হবে না।
নতুন করে সংঘর্ষে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি:
ইয়েমেনে সংঘর্ষ বৃদ্ধির মধ্যেই এই সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও বিবৃতির ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সাল থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা অনেকটাই বন্ধ রাখা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর হুথি এবং সৌদি আরব-সমর্থিত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার পৃথকভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের দক্ষিণের বন্দর শহর এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ করেছে।