২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে। এই তাপমাত্রা এল নিনোর ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উষ্ণ প্রশান্ত মহাসাগর?

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিবাহী মেঘের চলাচলে পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব সমুদ্রের বহু দূরের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াতেও পড়তে পারে।

WMO-র তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘নিনো ৩.৪’ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। অগাস্টে তা বেড়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালে এই তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। তা হলে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে নথিভুক্ত ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভারতের কি চিন্তার কারণ রয়েছে?

ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো নিয়ে প্রধান উদ্বেগ বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রাকে ঘিরে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য।

WMO-র অক্টোবরের পূর্বাভাসেও আগামী কয়েক মাসে দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ উপদ্বীপীয় দক্ষিণ এশিয়ার বড় অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২৭ সালেও কি প্রভাব বজায় থাকবে?

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের উপর নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। এল নিনোর প্রভাবে কোথায় কতটা গরম বাড়বে, কোথায় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তার প্রভাব কেমন হবে—তা বোঝার জন্য আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Touchy – WordPress Mobile Menu Plugin Tour Booking – Tour Adventure WordPress Theme – Entrada Tour Booking Travel | EXPLOORE Travel Tour Guide Builder for WordPress– Zero-Code Onboarding and Walkthroughs Tour Package – WordPress Travel/Tour Theme Tour Packer – Agency WordPress Theme Tourimo – Tour Booking WordPress Theme Tourog | Creative Agency WordPress Theme Touxt Multipurpose WooCommerce WordPress Theme Tow Now – Towing Services Elementor Template Kit