২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আল জাজিরা এবং দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলকে পাঁচটি পৃথক পরিস্থিতিতে ভাগ করা হয়েছে।

১. ফের নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে দক্ষিণপন্থী সরকার:

সম্ভাব্য পরিস্থিতি: জনমত সমীক্ষার সম্মিলিত পরিসংখ্যানে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকতে পারেন, যদি তাঁর দল লিকুদ এবং স্বাভাবিক দক্ষিণপন্থী জোটসঙ্গীরা একত্রে ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার পার করতে সক্ষম হয়।

জোটসঙ্গী: এই সম্ভাবনা নির্ভর করছে ইতামার বেন-গভিরের ইহুদি শক্তি এবং বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজমের মতো অতি-দক্ষিণপন্থী দলগুলির পাশাপাশি শাস এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মতো অতি-অর্থোডক্স দলগুলির সমর্থনের উপর।

সম্ভাব্য আসনসংখ্যা: ২০২৬ সালের অক্টোবরের বর্তমান জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, দক্ষিণপন্থী ‘হারেদি’ জোট সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। এই জোট প্রায় ৫২ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

২. বিরোধীদের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার:

সম্ভাব্য পরিস্থিতি: নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট পর্যাপ্ত আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

জোটসঙ্গী: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, চারটি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি—ইয়াশার পার্টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইজরায়েল বেইতেনু এবং টুগেদার জোট—পারস্পরিক সংঘাত এড়িয়ে সহযোগিতা করার জন্য একটি অনাক্রমণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

সম্ভাব্য নেতৃত্ব: এই জোটের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াশার পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট এবং টুগেদার জোটের সহ-নেতা নাফতালি বেনেট। কয়েকটি জনমত সমীক্ষায় ইয়াশার পার্টি ২০টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে উদারপন্থী দলগুলিকে একত্রিত করলেও ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের বাইরের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে।

৩. জাতীয় ঐক্যের সরকার:

সম্ভাব্য পরিস্থিতি: সংসদে যদি তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং কোনও প্রধান জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরগুলি বৃহত্তর জরুরি জোট গঠনে বাধ্য হতে পারে।

পূর্ববর্তী নজির ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া: সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকটের মধ্যে ব্যবধান কমাতে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আল জাজিরা-সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হলে পরপর আরও একটি আগাম নির্বাচন ডাকার পরিবর্তে ৫৫ শতাংশ ইজরায়েলি নাগরিক জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনকে বেশি পছন্দ করবেন।

৪. আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির উপর নির্ভরশীল জোট সরকার:

সম্ভাব্য পরিস্থিতি: বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন জোট ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও, আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করে অথবা তাদের সমর্থনের উপর নির্ভর করে সরকার গঠন করতে পারে।

সম্ভাব্য পথ: রা’আম (ইউনাইটেড আরব লিস্ট) দলের নেতা মানসুর আব্বাস বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে, জয়েন্ট লিস্ট জোটের দলগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও ভোটদানে বিরত থেকে অথবা অনাস্থা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বাইরে থেকে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারে।

তবে আইজেনকটের মতো বিরোধী শিবিরের বিশিষ্ট নেতারা প্রকাশ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

৫. রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত এবং ফের আগাম নির্বাচন:

সম্ভাব্য পরিস্থিতি: আইনত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নেতানিয়াহু অথবা বিরোধী পক্ষ—কেউই যদি ৬১টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের জন্য সফলভাবে জোটের সমঝোতায় পৌঁছতে না পারে, তাহলে দেশ আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়বে।

প্রক্রিয়া: নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ কোনও এক আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। সরকার গঠনে সফল হওয়ার জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। একাধিক প্রার্থী চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ইজরায়েলকে আবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। বিবিসি-সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরপর পাঁচটি আগাম নির্বাচনের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এই পরিস্থিতি তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

ইরান যুদ্ধ কি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে?

২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। গত তিন বছরের যুদ্ধ ইজরায়েলের নির্বাচনী সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুটি পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতির মাধ্যমে এই যুদ্ধ নেতানিয়াহুর নির্বাচনী সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করছে।

৭ অক্টোবরের হামলার জন্য জবাবদিহি: সমালোচক এবং বিরোধী নেতারা, বিশেষত ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট, নেতানিয়াহুকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিকে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভয়াবহ ত্রুটির কারণেই ৭ অক্টোবরের হামলা ঘটতে পেরেছিল।

দীর্ঘস্থায়ী, একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্লান্তি এবং পণবন্দিদের অমীমাংসিত পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে জনমত সমীক্ষায় বিরোধীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে রেখেছে। এর ফলে তাঁর জোটের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‘যুদ্ধকালীন নেতা’ হিসেবে ভাবমূর্তি: নেতানিয়াহু একজন কঠোর অবস্থান গ্রহণকারী যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণপন্থী এবং মধ্যপন্থার কাছাকাছি অবস্থানকারী দক্ষিণপন্থী ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন। এর আগে বড়সড় সামরিক অভিযানের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ অন্যতম। সেই সংঘাতকে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন।

দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট ইজরায়েলের বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীকে আরও দক্ষিণপন্থী অবস্থানের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু ভোটারদের সামনে বিষয়টিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান এবং ওই অঞ্চলে তাদের মিত্র শক্তিগুলিকে সফলভাবে প্রতিহত করতে একমাত্র তাঁর কঠোর অবস্থানই কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ নেতানিয়াহুর ঐতিহ্যগত সমর্থকগোষ্ঠীতে বিভাজন তৈরি করেছে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবিকে ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। তা সত্ত্বেও, আঞ্চলিক সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী রাখার উপর তাঁর জোর তাঁকে বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ে সমানে সমানে রেখেছে।

With agency inputs

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Nest – Multipurpose eCommerce HTML Template Nest – Multivendor Organic & Grocery Laravel eCommerce Nestbyte- Creative Agency and Startup WordPress Theme Netfee – Broadband and Internet WordPress Theme Netmix | Broadband & Telecom Internet Provider WordPress Theme Netric – Proxy & VPN Services Elementor Template Kit Netshare – Paywall & Content Sharing WordPress Theme Netube – Viral Video Blog / Magazine WordPress Theme Network Merchants (Collect.js) Payment Gateway for WooCommerce Network Merchants Payment Gateway for WooCommerce