লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টা ২০ মিনিট) পাম বিচ কাউন্টির ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে বিমানটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিসর্ট মার-আ-লাগোর দূরত্ব প্রায় ৯ মাইল (১৪ কিলোমিটার)।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, একটি রাস্তার মাঝখানে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে কংক্রিটের টুকরো, বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং আগুনের চিহ্ন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিমানের উড়ান সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আছড়ে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশো ফুট গতিতে নীচের দিকে নামছিল। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) নিশ্চিত করেছে, বিমানটি অস্টিন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং তার গন্তব্য ছিল বাহামাস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে (নিউজ18 বাংলা এই ভিডিওর যাচাই করেনি) দুর্ঘটনার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। সম্ভবত একটি গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি শহরতলির রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। আচমকাই বিমানটি প্রায় খাড়াভাবে মাটির দিকে নেমে এসে আছড়ে পড়ে। এর পরই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
ফ্লোরিডায় স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ১টা নাগাদ মিলিটারি ট্রেইল ও ১০ নম্বর অ্যাভিনিউ নর্থের কাছে বিমানটি আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নীচে পড়ার আগে বিমানটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নিয়ে রাস্তায় পড়ে। দুর্ঘটনার জেরে ওই এলাকার রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং চারিদিকে বিমানের জ্বলন্ত টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। পথচলতি গাড়ির যাত্রীদের ক্যামেরায় সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ছবি ধরা পড়েছে।
এই ভিডিও প্রসঙ্গে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস (Florida Governor Ron DeSantis) একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আপনি যখন ওই ভিডিও দেখবেন, তখন তা আপনাকে স্তম্ভিত করে দেবে। মনে হবে যেন একটি মিসাইল নীচে নেমে আসছে। তার পরই বিশাল বিস্ফোরণ, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ।”
বিমানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ডিস্যান্টিস আরও জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কোনও ব্যক্তির হতাহত হওয়ার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, “এখনও পর্যন্ত মাটিতে থাকা কোনও ব্যক্তির মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর আমাদের কাছে নেই।”
মার্কিন পরিবহণ সচিব শন ডাফি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্তে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডকে (NTSB) সাহায্য করার জন্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) একটি বিশেষ দল পাঠাবে।
ডাফি আরও বলেন, “যাঁদের আমরা হারিয়েছি, তাঁদের পরিবার এবং প্রিয়জনদের জন্য প্রার্থনা করুন।”