মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দু’টি বিমান উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি প্রশাসন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ শেয়ার হওয়া একাধিক ভিডিয়োতে কেশম দ্বীপে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এরপরই শোনা যাচ্ছে একের পর এক জোরালো বিস্ফোরণের আওয়াজ। যদিও এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি News18। প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, দ্বীপে থাকা একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সেখানে কোনও হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। এই ঘটনায় আমেরিকা বা ইজরায়েলের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও কোনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছিল, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণাংশে দু’টি মার্কিন MQM-170 নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা।
IRGC-র দাবি, সর্বশেষ এই ঘটনার ফলে ইরানের হাতে ধরা পড়া মার্কিন ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। এর আগেও হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি MQ-9 ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছিল ইরান।
#BREAKING Initial footage of US strikes on Qeshm Island, Hormozgan Province, southern Iran. https://t.co/3OMIhyVmVC
— Global OSINT (@GlobalOSINTHQ) November 2, 2026
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের:
বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প ফের ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি, ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত পড়ছে। প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০ ডলার কমেছে, যা রেকর্ড। কারণ মানুষ মনে করছে, ইরানের সঙ্গে আর যুদ্ধ হবে না।”
তিনি আরও লেখেন, “ইরান যত দ্রুত সম্ভব সমঝোতায় পৌঁছতে চায়। এমনটা ঘটতেও পারে!”