নয়াদিল্লি: শিশুপুত্রকে রেখে বেরিয়েছিলেন। ফিরলেন যখন, সেই ছেলেরও ছেলে হয়ে গিয়েছে। হেঁটে বিশ্বভ্রমণ করে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন রোমাঞ্চপ্রিয় কার্ল বুশবি। ঘর ছেড়েছিলেন যখন, বয়স ছিল ২৯ বছর। বাড়ি ফিরে এলেন ৫৭ বছর বয়সে। (Karl Bushby Returns Home)

ব্রিটেনের নাগরিক কার্ল। গত ২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ করেছেন তিনি। কোনও রকম মোটরযানে সওয়ার না হয়ে ঘুরে দেখেছেন চার-চারটি মহাদেশ। আমেরিকা, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ দেখে শেষ পর্যন্ত সোমবার ইংল্যান্ডের হালে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় উপচে পড়ে। এত বছর পর কাছে পেয়ে আনন্দাশ্রু ফেলেন প্রিয়জনেরা। (Karl Bushby Adventure)

ব্রিটিশ সেনায় কর্মরত ছিলেন কার্ল। রোমাঞ্চপ্রিয় বরাবরই। বইও লিখেছেন। ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল, কোনও রকম মোটরচালিত যান ছাড়াই বিশ্বভ্রমণ করবেন। লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফিরবেন না বলেও পণ করেছিলেন তিনি। 


আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকার নকল ২০ টাকার কয়েন ঢুকে গিয়েছে বাজারে? একাধিক রাজ্যে চলছে কারবার? বড় চক্রের পর্দাফাঁস

প্রথমে চিলের উদ্দেশে রওনা দেন কার্ল। কম ঝক্কি পোহাননি লক্ষ্যপূরণে। বেরিং জলপ্রণালী সাঁতরে পার করেন। সাঁতরে পেরোন কাস্পিয়ান সাগর, ইংলিশ চ্যানেলও। তবে মূলত স্থলভাগ দিয়ে হেঁটেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান তিনি। ঘন জঙ্গল, বৃষ্টি অরণ্য, মরুভূমি, হিমশীতল তুন্দ্রার উপর দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। 

পাঁচ বছরের মধ্যেই লক্ষ্যপূরণ হবে বলে প্রথমে ভেবেছিলেন কার্ল। পরে ১২ বছরের লক্ষ্য়মাত্রা বেঁধে দেন নিজেকে। কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী, যাত্রা দীর্ঘায়িত হতে শুরু করে। সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয় রাশিয়ায়। সেখানে আটকও হন কার্ল। বেআইনি ভাবে বেরিং পেরনোয় তাঁকে আটক করা হয়।  রাশিয়াতেই ১০ বছর কেটে যায় তাঁর। শুধু রাশিয়াই নয়, পানামাতেও জেলে যেতে হয় তাঁকে। কোভিডের সময়ও যাত্রা আটকে যায়। সেই সময় মেক্সিকোতে থাকতে হয় দীর্ঘদিন।

আরও পড়ুন: TATA থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন বড় মাথা, ‘তিল তিল করে গড়ে তোলা সুনাম নষ্ট’, স্মরণ করিয়ে গেলেন

২০১২ সালে ভিসা নিয়ে ঝামেলার জেরে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জলস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত হাঁটেন কার্ল, যাতে এক বছর সময় লেগে যায় তাঁর। রুশ দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ জানান। এই ২৮ বছরে ৩১০০০ মাইল (৫০০০০ কিলোমিটার) পথ হেঁটে পেরিয়েছেন কার্ল। 

এই ২৮ বছরে দু’বার প্রেমে পড়েন কার্ল। কলম্বিয়ার এক মহিলার সঙ্গে প্রথমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জাপানের এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তবে সেগুলি পরিণতি পায়নি। আমেরিকাতেই ১০ জোড়া জুতো ছিঁড়ে যায় তাঁর। 

বিশ্বভ্রমণে বেরনোর আগে বিয়ে হয়েছিল কার্লের। ১৯৯০ সালে তাঁদের ছেলে অ্যাডাম জন্ম নেয়। কিন্তু ১৯৯৫ সাল নাগাদ বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় কার্লের। এতদিন পর কার্ল যখন নিজের বাড়িতে, মায়ের কাছে ফিরলেন, তাঁর ছেলে অ্যাডামের বয়স হয়ে গিয়েছে ৩৬ বছর। অ্যাডামের মেয়ের বয়সই ১২ বছর, যাকে এই প্রথম দেখলেন কার্ল। এত বছর পর ছেলেকে কাছে পেয়ে ভেঙে পড়েন কার্লের মা-ও।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Ninja Forms Multi-Part Forms Ninja Forms OnePageCRM Ninja Forms PayPal Express Ninja Forms PDF Form Submission Ninja Forms PipelineDeals CRM Ninja Forms Recurly Ninja Forms SalesForce CRM Ninja Forms Save Progress Ninja Forms Secure Form Ninja Forms Slack