এই হামলার জবাবে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’৷ এক পরিকল্পিত সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান। ভারতের লক্ষ্য ছিল হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গি সংগঠন ও তাদের ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা। পাল্টা জবাব দিয়েছিল পাকিস্তানও৷ ভারতের অভিযানের পরে পাকিস্তান ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করে। জম্মুর শম্ভু মন্দির, পুঞ্চের একটি গুরুদ্বার এবং কয়েকটি খ্রিস্টান কনভেন্ট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় সেই সময়।
৭ মে ভারতের প্রথম সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ‘লক্ষ্যভিত্তিক, নিয়ন্ত্রিত এবং অ-উত্তেজনামূলক’ অভিযান। ভারত স্পষ্ট করে যে, পাকিস্তানের সাধারণ সামরিক ঘাঁটি নয়, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে তা ধূলিস্মাৎ করতে চেয়েছে ভারত। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি, ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত একাধিক ব্রিফিংয়ে জানান, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। তবে ভারতের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত এলে, তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয় সেই সমস্ত ব্রিফিংয়ে।
এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করে—
পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়
১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়
লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়
রাফাল যুদ্ধবিমান, স্ক্যাল্প মিসাইল ও হ্যামার বোমার মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা চালানো হয়
ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে
সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে ভারতের সামরিক সমন্বয় ক্ষমতা প্রদর্শন করে
ভারতের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের সময় পাকিস্তানের চিনা-নির্মিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ব্যর্থ হয়। ভারতীয় বাহিনী মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে অভিযান সম্পন্ন করে এবং নিরাপদে ফিরে আসে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ সফরে থাকলেও পুরো অভিযানের ওপর নজর রাখেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নেতৃত্বে—
সামরিক পদক্ষেপের সময় নির্ধারণ করা হয়
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের মতো কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয় যে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে
১২মে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অপারেশন সিঁদুর ভারতের জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতীক।”
‘সিঁদুর’ নামটি বেছে নেওয়া হয় পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবার, বিশেষ করে বিধবাদের বেদনার প্রতীক হিসেবে। একই সঙ্গে এটি দেশের নাগরিকদের রক্ষায় ভারতের দৃঢ় প্রতিজ্ঞাকেও তুলে ধরে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে বহু আন্তর্জাতিক নেতা ভারতের পাশে দাঁড়ান এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করেন। ভারত জানায়, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
অপারেশন সিঁদুরকে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অভিযান হিসেবে দেখা হয়। এটি শুধু সন্ত্রাসবাদ দমনের পদক্ষেপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের কড়া অবস্থান, সামরিক দক্ষতা এবং কৌশলগত সংযমেরও উদাহরণ।
এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—সন্ত্রাসবাদ এবং তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে দেশ কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে থাকবে।