Last Updated:
Operation Sindoor: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত তৈরি হয়। গত বছরের ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী সিঁদুর অভিযান চালায়।
নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরবর্তী অধ্যায়ে পাক ভূখণ্ডে যে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সেই অভিযানের এক বছর পূর্ণ হল। শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদিই নন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও এই দিনে তাঁদের ডিসপ্লে পিকচার পরিবর্তন করেছেন।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কারগিল যুদ্ধের পর থেকে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত ও মতাদর্শগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা হবে আরও দ্রুত, আরও নেটওয়ার্কযুক্ত, আরও প্রযুক্তি-চালিত এবং ক্রমবর্ধমানভাবে দেশীয় ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।অপারেশনটি আধ ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু এর পরবর্তী সামরিক উত্তেজনা প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল।
অপারেশন সিঁদুর -পরবর্তী সামরিক মূল্যায়ন থেকে বারবার যে শিক্ষাটি উঠে এসেছে তা হল ড্রোন, নির্ভুল অস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব।দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর মতে, সশস্ত্র বাহিনী ‘সেন্সর-টু-শুটার টাইমলাইন’কমানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। অপারেশন সিঁদুরের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়েও অন্যতম তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছিল।
দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানটির পরের বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। যেখানে আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা। এই ক্রয়ের মধ্যে রয়েছে মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা, দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম, স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি এবং মহাকাশ-ভিত্তিক সরঞ্জাম। সরকার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য জরুরি ক্রয়ের ক্ষমতাও চালু করেছে, যার ফলে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার সরঞ্জাম দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। নতুন ফাস্ট-ট্র্যাক ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহের সময়কাল ৩০-৫০ শতাংশ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরেকটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হল, প্রচলিত ‘এল১’। দেশীয় উৎপাদনে বিনিয়োগকারী ভারতীয় সংস্থাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক বছর পর অপারেশন সিঁদুরকে আর শুধু একটি সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটিকে ক্রমশ একটি কৌশলগত সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
A year ago, during #OperationSindoor, our armed forces showcased their valour and gave a firm response to those who attacked our people. Every Indian is proud of our armed forces. As a mark of respect to our forces and their success during #OperationSindoor, let us all change our… pic.twitter.com/w4A3j1bGTw
— Narendra Modi (@narendramodi) May 7, 2026
অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী ভারতের কৌশল নজির গড়েছে। এই অভিযানটি এমন একটি মডেল প্রতিষ্ঠা করেছে। ইকনমিক টাইমস বলেছে, এই অভিযানটি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কে জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে হারাতে এবং এর সহায়ক পরিবেশকে ধ্বংস করতে আমরা আমাদের সংকল্পে আগের মতোই অটল রয়েছি।’
বিমান বাহিনী একটি ভিডিও ক্লিপও শেয়ার করেছে, যেখানে দেখানো হয়েছে গত বছর সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত কীভাবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী পরিকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে অচল করে দিয়েছিল। বিমান বাহিনী একটি টুইটে বলেছে, ‘অপারেশন সিঁদুর, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত। পদক্ষেপে নির্ভুল, স্মৃতিতে চিরস্মরণীয়—অপারেশন সিঁদুর চলছে। ভারত কিছুই ভোলে না—ভারত কিছুই ক্ষমা করে না।’
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
