Last Updated:
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় নিজেকে নিরপেক্ষ পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, ‘গোপনে’ নাকি ইরানের সামরিক ও নজরদারি বিমানগুলোকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান।
তেহরান: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় নিজেকে নিরপেক্ষ পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, ‘গোপনে’ নাকি ইরানের সামরিক ও নজরদারি বিমানগুলোকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ৷
সিবিএস নিউজে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তান কার্যত ওই বিমানগুলোকে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে আড়াল করার কাজ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত বাড়তে থাকায় নিজেদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত সম্পদকে নিরাপদ রাখতেই নাকি বিমানগুলিকে স্থানান্তর করেছিল ইরান৷
মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও অভিযোগ, তেহরান একাধিক বিমান পাকিস্তানে পাঠায়, যার মধ্যে ছিল ইরানি বিমানবাহিনীর একটি RC-130 বিমান। এটি মূলত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং লকহেড সি-ওয়ানথার্টি হারকিউলস (Lockheed C-130 Hercules) কৌশলগত পরিবহণ বিমানের একটি বিশেষ সংস্করণ।
ওই বিমানটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নূর খান এয়ারবেসে রাখা হয়েছিল বলেই দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত এই কৌশলগত ঘাঁটিটি ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল এবং এটি পাকিস্তানের সামরিক সদর দফতরের কাছাকাছি অবস্থিত। যদিও সিবিএস নিউজের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা৷
তিনি বলেন, “নূর খান ঘাঁটিটি শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে। সেখানে বড় সংখ্যায় বিমান রাখা হলে তা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের এক অসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তা CBS News-কে জানান, সংঘাত শুরুর কিছু আগে ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি বিমান কাবুলে অবতরণ করেছিল। ইরান নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার পর বিমানটি কাবুল বিমানবন্দরেই দাঁড়িয়ে ছিল বলে দাবি করা হয়।
ওই আফগান কর্মকর্তা আরও জানান, মার্চ মাসে পাকিস্তান যখন তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-কে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে কাবুলে বিমান হামলা চালায়, তখন তালিবান প্রশাসনের বিমান চলাচল কর্তারা নিরাপত্তার কারণে এবং পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ওই বিমানটিকে ইরান সীমান্তের কাছে হেরাত বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, আফগানিস্তানে থাকা এটিই ছিল একমাত্র ইরানি বিমান৷ তবে তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ নাকচ করে দেন৷ তিনি বলেন, “একেবারে সত্যি নয়। ইরানের এ ধরনের সাহায্যের প্রয়োজনও নেই।”
Kolkata,West Bengal
