Last Updated:
ক্রমশ ভয় ধরাচ্ছে হান্টা ভাইরাস! আর্জেন্তিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে কাবো ভার্দে যাওয়া এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই ক্রুজে দু’জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। জানা গিয়েছে, এ বার ওই ভাইরাসে তাঁরও আক্রান্ত হয়েছেন।
নয়া দিল্লি: ক্রমশ ভয় ধরাচ্ছে হান্টা ভাইরাস! আর্জেন্তিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে কাবো ভার্দে যাওয়া এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই ক্রুজে দু’জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। জানা গিয়েছে, এ বার ওই ভাইরাসে তাঁরও আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও রবিবার স্পেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে উপসর্গহীন। তাঁরা সুস্থ রয়েছেন।
বর্তমানে জীবিতদের মধ্যে সাতটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও একটি ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য’ সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও, একাধিক সন্দেহভাজন রোগী ও তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন কোন দেশে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত ও সম্ভাব্য হান্টা ভাইরাস সংক্রমিতর খোঁজ মিলেছে?
নেদারল্যান্ডস: সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডসে। এখন পর্যন্ত দুই ডাচ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। প্রথমে এক ডাচ দম্পতি দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের পর ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে জাহাজে ওঠেন। তাঁর ৭০ বছরের স্বামীর ৬ এপ্রিল উপসর্গ দেখা দেয় এবং ১১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। পরে দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জাহাজ থামলে তাঁর দেহ নামানো হয়। যদিও তাঁর হান্টাভাইরাস পরীক্ষা হয়নি, WHO তাঁকে “সম্ভাব্য” আক্রান্ত বলছে। তাঁর ৬৯ বছরের স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে সেন্ট হেলেনায় নেমে যান। পরে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে ২৬ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। ৪ মে তাঁর শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। এছাড়া, জাহাজের এক ডাচ চিকিৎসকেরও ৬ মে অ্যান্ডিজ স্ট্রেন ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি নেদারল্যান্ডসে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন এবং স্থিতিশীল আছেন।
ইউকে: ব্রিটেনে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও একজনকে সম্ভাব্য আক্রান্ত বলা হয়েছে। এক ব্রিটিশ ব্যক্তি ২৪ এপ্রিল অসুস্থ হন এবং পরে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেন পাওয়া যায়। আরেকজন ব্রিটিশ গাইডেরও ৬ মে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাঁকে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে গিয়ে আইসোলেশনে চিকিৎসা চলছে। এছাড়া, আরেক ব্রিটিশ যাত্রী আগে ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে নেমেছিলেন। পরে তাঁরও উপসর্গ দেখা দেয় এবং WHO এখনও তাঁকে সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত রেখেছে। জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে ব্রিটিশ সেনা ও চিকিৎসকরা ওই দূরবর্তী দ্বীপে প্যারাসুটে নেমেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
জার্মানি: জাহাজে থাকা অবস্থায় জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক জার্মান মহিলার ২ মে মৃত্যু হয়। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেনের হান্টাভাইরাস ধরা পড়ে।
সুইজারল্যান্ড: এক সুইস যাত্রী ২২ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতার হয়ে দেশে ফেরেন। সুইজারল্যান্ডে পৌঁছনোর পর তাঁর উপসর্গ দেখা দেয় এবং ৫ মে তাঁর শরীরে অ্যান্ডিজ স্ট্রেন ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন।
ফ্রান্স: ফ্রান্সে এক মহিলা যাত্রীকে জাহাজ থেকে ফিরিয়ে আনার পর তাঁর শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। ১০ মে রাতে তাঁর উপসর্গ শুরু হয় এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে জানিয়েছেন ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট।
আমেরিকা: মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ থেকে ফিরিয়ে আনা ১৭ জন আমেরিকানের মধ্যে একজনের শরীরে হালকা মাত্রায় হান্টাভাইরাস ধরা পড়েছে। আরও একজনের হালকা উপসর্গ রয়েছে। তাঁদের নেব্রাস্কার বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্পেন: স্পেন জানিয়েছে, ভাইরাস আক্রান্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া এক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাস ধরা পড়েছে। তিনি উপসর্গহীন ছিলেন এবং মাদ্রিদের গোমেজ উলা সামরিক হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া, আরও ১৩ জনের রিপোর্ট আপাতত নেগেটিভ এসেছে, যদিও চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল এখনও বাকি।
Kolkata,West Bengal
