Last Updated:
West Medinipur News: পুরনো ইটের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জরাজীর্ণ দেওয়াল জুড়ে এখন শিকড়ের রাজত্ব। মেদিনীপুরের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ দাঁতন মুন্সেফ কোর্ট আজ অবহেলিত।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পুরনো ইটের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত। জরাজীর্ণ দেওয়ালের খাঁজে খাঁজে এখন শিকড়ের আস্তানা। দিনের আলোয় সেখানে এক গা ছমছমে নীরবতা থাকলেও, ওই দেওয়ালগুলোতে কান পাতলে আজও শোনা যায় ব্রিটিশ আমলের অত্যাচারের আর্তনাদ কিংবা বিচারের আর্জি। পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রান্তিক জনপদ দাঁতন। ওড়িশা সীমান্তের এই জনপদেই এক সময় ব্রিটিশ শাসকরা প্রশাসনিক শক্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কালের নিয়মে আজ সেই ঐতিহ্যের ইমারত স্রেফ এক খণ্ড ধ্বংসস্তূপ। অযত্ন আর অবহেলায় মেদিনীপুরের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় এখন মুছে যাওয়ার অপেক্ষায়।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, প্রায় ১৭০ বছর আগে ব্রিটিশ শাসকরা এই দাঁতনকে কেন্দ্র করেই তাদের ওড়িশা বিজয়ের ছক কষেছিল। বাংলা ও বিহার দখলের পর ব্রিটিশদের নজরে ছিল ওড়িশা। আর সেই লক্ষ্যেই ওড়িশা সীমান্তের এই জনপদে গড়ে তোলা হয়েছিল পুলিশ চৌকি এবং প্রশাসনিক কার্যালয়। জেলা সদর মেদিনীপুর শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকায় ব্রিটিশ আমলদারদের যাতায়াত ও বসবাসের প্রয়োজনে গড়ে উঠেছিল ইংরেজি বিদ্যালয়। সেই প্রশাসনিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল দাঁতন মুন্সেফ কোর্ট। এক সময় অবিভক্ত মেদিনীপুরের কাঁথি কিংবা এগরার মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও যখন আদালত স্থাপিত হয়নি, তখন দাঁতনেই চলত বিচার ব্যবস্থার কাজ। জজ কোর্টের পর মেদিনীপুরের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিচারালয় ছিল এটি।
কথিত আছে, ব্রিটিশদের আগমনের আগে এখানে ছিল কাজীর বিচারালয়। পরবর্তীতে ইংরেজরা সেখানে মুন্সেফ কোর্ট স্থাপন করে। কয়েক দশক আগেও যে প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবীদের সওয়ালে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সচল ছিল এই আদালত ভবন। কিন্তু আধুনিক সময়ে দাঁতনেই নবরূপে আদালত গড়ে ওঠায় ব্রাত্য হয়ে পড়েছে এই পুরনো ইমারতটি। বর্তমানের নতুন ভবনে বিচারে গতি এলেও, অবহেলায় শেষ হয়ে যাচ্ছে দেড়’শ বছরের পুরনো সেই স্থাপত্য।
স্থানীয় মানুষ ও ইতিহাসপ্রেমীদের আক্ষেপ, চোখের সামনে তিল তিল করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই প্রাচীন নিদর্শন। ইটের দেওয়াল ভেঙে গাছ গজিয়ে উঠেছে, ছাদ ধসে পড়ছে। অথচ এই ভবনটি ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে দুই রাজ্যের সীমান্ত রাজনীতির নানা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রশাসন যদি সময়মত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে, তবে শীঘ্রই ইতিহাসের এই সাক্ষী মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। এককালের বিচারালয় আজ নিজেই যেন সময়ের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। তবে সেই বিচার করার লোক বোধহয় আর নেই।
Paschim Medinipur,West Bengal
West Medinipur News: ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস! দেওয়াল জুড়ে বট-পাকুড়ের শিকড়, মেদিনীপুরের প্রাচীন বিচারালয় আজ নিজেই ‘বিচারপ্রার্থী’