‘বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো হয়েছে’:
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিমানে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি ইজরায়েলি নাগরিক। যাত্রাপথে বিমানটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সপন্ডার স্কোয়াক কোড 7500 অ্যাকটিভ করে, যা হাইজ্যাকিং বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সঙ্কেত দেয়। এর পরেই জরুরি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইজরায়েলি বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান পাঠায়।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে।
ইজরায়েলি আধিকারিক এবং সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক বিবৃতিতে প্রথমে হাইজ্যাকিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয়নি। ককপিটে পাইলটদের মধ্যে হিংসাত্মক “শারীরিক সংঘর্ষ” বা হাতাহাতির কারণে জরুরি স্কোয়াক সঙ্কেত এবং পরবর্তী গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ এবং ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ প্রকাশিত আপডেট অনুযায়ী, ইজরায়েলের শীর্ষ আধিকারিকরা এখন জানাচ্ছেন যে “বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো হয়েছে”। এমন ইঙ্গিত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে যে কো-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে সেটিকে ভেঙে ফেলা বা বড় ধরনের হামলা চালানো যায়। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা ওই পাইলট ওমানের নাগরিক বলে মনে করা হচ্ছে।
চ্যানেল ১২-এর অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী হিসেবে সিভিল পোশাকে বিমানে থাকা পাইলটদের দ্বিতীয় একটি দল পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে বেপরোয়া পাইলটকে কাবু করতে এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আটকাতে সাহায্য করেছিল।
‘হাইজ্যাকের চেষ্টা স্পষ্ট’:
এক ইজরায়েলি আধিকারিক বলেছেন, পাইলট ঠিক কী করতে চেয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়—তিনি বিমানটি ইজরায়েলের দিকে হাইজ্যাক করতে চেয়েছিলেন, মাটিতে বিমানটি ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন, নাকি ১১ সেপ্টেম্বরের মতো হামলা চালাতে চেয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, আধিকারিকটি বলেন, তিনি বিমানটি হাইজ্যাক করতে চেয়েছিলেন।
ওই আধিকারিক বলেন, ছুরি দিয়ে হামলা চালানো পাইলটের পরিচয় নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এখনও কাজ করছে। ওই পাইলট মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক হতে পারেন বলে যে সন্দেহ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
যাত্রীরা নিরাপদ:
বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে যে সমস্ত যাত্রী এবং ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন এবং তাঁদের হিসাব পাওয়া গিয়েছে। ইজরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায়, আটকে পড়া ইজরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইজরায়েলি আধিকারিকরা কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি যাত্রীবাহী অথবা সামরিক বিমান পাঠানো হতে পারে।