Last Updated:
২০২৬ সালের তেল সঙ্কট মোকাবিলায় বহু দেশ শুধু আহ্বানেই থেমে থাকেনি, বরং জ্বালানির কম ব্যবহার, বাধ্যতামূলক ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম (WFH), জ্বালানির সীমা নির্ধারণ, গাড়ির গতি কমানো এবং ভ্রমণে বিধিনিষেধের মতো কঠোর পদক্ষেপও নিয়েছে।
নয়া দিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি অব্যাহত। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার বাঁচাতে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর জন্য দেশবাসীর কাজে আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। করোনা অতিমারির সময়ে ভারত তথা গোটা বিশ্বে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়িতে বসে কাজ শুরু হয়েছিল। দেশবাসীকে আবার সেই রকম ভাবে বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৬ সালের তেল সঙ্কট মোকাবিলায় বহু দেশ শুধু আহ্বানেই থেমে থাকেনি, বরং জ্বালানির কম ব্যবহার, বাধ্যতামূলক ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম (WFH), জ্বালানির সীমা নির্ধারণ, গাড়ির গতি কমানো এবং ভ্রমণে বিধিনিষেধের মতো কঠোর পদক্ষেপও নিয়েছে।
গোটা বিশ্বে কী ঘটছে?
গোটা বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বিভিন্ন দেশ কী কী জরুরি শক্তি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নিয়েছে? সেই তথ্য তুলে ধরেছে IEA Tracker। ইউরোপীয় কমিশন-সহ প্রায় ৪০টি দেশ এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৪০টিরও বেশি দেশ জ্বালানি ব্যবহার ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করেছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো আবগারি শুল্ক কমানো, সরকারি সহায়তা প্যাকেজ, অতিরিক্ত দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং পরিবহণ, কৃষি ও বেশি জ্বালানি-নির্ভর ক্ষেত্রগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করেছে।
৩টি দেশ রান্নার তেল ও LPG ব্যবহারে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এনেছে— যেমন রেশনিং, অর্ধেক সিলিন্ডার ভরার নিয়ম, অথবা বিদ্যুৎ ও PNG ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা।
১৮টি দেশ যাতায়াত কমানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি রেশনিং বা সীমা নির্ধারণ, বিকল্প দিনে গাড়ি চালানোর নিয়ম, গণপরিবহণ ও কারপুলিংয়ের প্রচার, ব্যক্তিগত ও সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনে (EV) উৎসাহ দেওয়া।
১৩টি দেশ বিশেষ করে সরকারি ক্ষেত্রে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম (WFH) ও রিমোট ওয়ার্ক ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিয়েছে। প্রায় সব দেশই (৩৫টিরও বেশি) জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বৃহৎ প্রচার অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও আলোর ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ, সরকারি ভ্রমণ কমানো।
জ্বালানি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ
১. ওয়ার্ক ফ্রম হোম: অনেক দেশ সরকারি কর্মচারীদের জন্য রিমোট ওয়ার্কে উৎসাহিত করছে বা বাধ্যতামূলক করেছে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও তা প্রচার করছে, যাতে যাতায়াত কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়। যেমন–
• পাকিস্তান (৪ দিনের কর্মসপ্তাহ + ৫০% রিমোট কাজ)
• ইন্দোনেশিয়া (শুক্রবার ওয়ার্ক ফ্রম হোম)
• শ্রীলঙ্কা (বুধবার সরকারি অফিস বন্ধ)
• দক্ষিণ কোরিয়া (নমনীয় কর্মব্যবস্থা)
• কম্বোডিয়া
• লাও পিডিআর
• মালয়েশিয়া
• ফিলিপাইন
• থাইল্যান্ড
• ভিয়েতনাম
• পেরু
• মিশর
২. কুলিং / এসি ব্যবহারে সীমা:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অফিস ও সরকারি ভবনে এসির নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন–
• বাংলাদেশ (২৫° সেলসিয়াস)
• সিঙ্গাপুর (২৫° সেলসিয়াস, ফ্যান ব্যবহারে জোর)
• কম্বোডিয়া (২৪–২৫° সেলসিয়াস)
• মালয়েশিয়া (২৪° সেলসিয়াস)
• শ্রীলঙ্কা (২৬° সেলসিয়াস)
• থাইল্যান্ড (২৬° সেলসিয়াস)
• জর্ডান (সরকারি অফিসে এসি নিষিদ্ধ)
৩. সরকারি সফরে বিধিনিষেধ:
সরকারি বিমান ও সড়ক সফর, পাশাপাশি বিদেশ সফরের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
