Last Updated:
Kshudiram Tudu: জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামেই বেড়ে ওঠা, এবার রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী ক্ষুদিরাম! জানেন কোথায় কেটেছে তাঁর শৈশব?
বাঁকুড়া: রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হল রানিবাঁধের বিধায়ক তথা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুকে। মাটির বাড়ি, গ্রামের কাঁচা রাস্তা আর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন— এই পরিচয় নিয়েই পথচলা শুরু করেছিলেন ক্ষুদিরাম টুডু।
বাঁকুড়া শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলমহলে বারিকুল থানার অন্তর্গত বাগডুবি গ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক, আর মনের গভীরে ছিল মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, বারবার পরাজয়, কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে শুধু বিধায়কই নন, এবার পূর্ণ মন্ত্রিত্বও পেলেন জঙ্গলমহলের এই মাটির মানুষ।
জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার এক সাধারণ মাটির বাড়িতেই এখনও মাঝে মাঝে এসে বাস ক্ষুদিরাম টুডুর। গ্রামের মানুষ বলছেন, “মন্ত্রী হলেও উনি আমাদেরই মানুষ।” প্রতিবেশীদের চোখে আজ গর্ব আর আবেগ— যে মানুষটিকে প্রতিদিন কাছ থেকে দেখেছেন, সাধারণ জীবন কাটাতে দেখেছেন, সেই মানুষই আজ রাজ্যের মন্ত্রী। খবর ছড়াতেই বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামবাসীরা। কেউ গান গাইছেন, কেউ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন— “আমাদের গ্রামের ছেলে এত বড় জায়গায় পৌঁছেছে, এটা ভাবতেই ভাল লাগছে।”
২০১৬ ও ২০২১— টানা দু’বার পরাজয়ের মুখ দেখতে হলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি ক্ষুদিরাম টুডু। প্রথম থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন জঙ্গলমহলে। অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে রানিবাঁধের বিধায়ক হন তিনি। আর এবার পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে গোটা বাঁকুড়া জেলা জুড়ে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাঁকুড়া জেলা কোনও পূর্ণমন্ত্রী পেল। ফলে জঙ্গলমহলের মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে অনেকটাই। তাঁদের বিশ্বাস, মাটির বাড়ি থেকে উঠে আসা ক্ষুদিরাম টুডু গ্রামের মানুষের সমস্যা, অভাব আর বাস্তবটা খুব কাছ থেকে জানেন। তাই তাঁর হাত ধরেই এবার জঙ্গলমহলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়