Last Updated:
Gold Market: সোনার দাম বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক মন্দার জেরে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে স্বর্ণশিল্পে চরম সংকট। ব্যবসায়ী থেকে কয়েকশো কারিগর এখন দুশ্চিন্তায়। কী হবে কেউ জানে না।
তমলুক, সৈকত শী: সোনার বিক্রি ব্যাপকভাবে কমেছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ এখন সোনার দোকান এড়িয়ে চলছেন। আর ঠিক এই কারণেই, বিয়ের ভরা মরশুমে দোকানদার থেকে শুরু করে স্বর্ণশিল্পী, সবাইকেই নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নোটবন্দির ধাক্কা, করোনার দীর্ঘ আর্থিক সঙ্কট, তারপর লাগাতার সোনার দাম বৃদ্ধি-সহ একের পর এক প্রতিকূলতায় শেষ কয়েক বছর ধরে ধুঁকছে সোনার বাজার। তার উপর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এক বছর সোনা না কেনার বার্তা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সোনা ব্যবসায়ী ও কারিগর মহলে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তমলুকের বহু পরিবার, যাদের জীবিকা সরাসরি এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর শহর তমলুকে প্রায় ১০০টা সোনার দোকান রয়েছে। পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৬০০-রও বেশি কারিগর। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সোনা দোকান বা বড় বড় সোনার শোরুমগুলিতে কাজ করছে কয়েকশ জন। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে সোনার গহনার বিক্রি আরও কমছে। আর তাতেই এই স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, বিগত কয়েক বছরে সোনার দাম যেভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে আগের তুলনায় বিক্রিও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বহু ছোট ব্যবসায়ী ও কারিগর সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বার্তা তাঁদের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোনা দোকানদার থেকে শুরু করে সোনার কারিগরেরা অধিকাংশই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কাজ কমে যাওয়ায় এখন নিয়মিত আয় প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে ছোট ছোট দোকানগুলি। কারণ তাদের এমনিতেই সারা বছর বিক্রি বাটা কম হত। এখন সেই বিক্রি একেবারে বন্ধ হল। সোনার গহনার বিক্রি কমে যাওয়ায় সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরেরা। কারণ তারা মজুরির ভিত্তিতে সোনার গহনা বানাতেন। দোকানে সোনার গহনা বিক্রি তলানিতে ঠেকায় তাদের কাছে গহনা তৈরির অর্ডার আসছে না আগের মতো। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠছে বহু মানুষের কাছে।
বঙ্গীয় স্বর্ণ শিল্পী সমিতির তমলুক শাখার যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ চন্দ্র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সোনা না কিনতে। এর ফলে আমরা ভীষণভাবে বিপদে পড়ব। ২০১৬ সালে নোটবন্দি, ২০২০ সালে কোভিড, তারপর শেষ দু-তিন বছরে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যেই সোনা ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন যদি মানুষ সোনা কেনাই বন্ধ করে দেন, তাহলে শোরুম মালিক থেকে কারিগর, সকলেরই রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যাবে। সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই বহু কর্মী ও ব্যবসায়ী এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গিয়েছেন। অনেক কারিগর এখন টোটো চালাচ্ছেন। এরপর যদি ক্রেতা আরও কমে যায়, তাহলে বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সংঘাত পড়েছে ভারতবর্ষ জুড়ে স্বর্ণ শিল্পে। এই সংঘাত আগামীদিনে স্বর্ণ শিল্পীদের পাশাপাশি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তমলুকের এক স্বর্ণ শিল্পী বলেন, “২৬ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। কিন্তু এত বড় আর্থিক মন্দা আগে কখনও দেখিনি। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দেশের ভালর কথা ভেবেই বলেছেন, কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের জেরে আমাদের জীবন-জীবিকা বিপদের মুখে পড়েছে।” সব মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের ছোট বড় দোকানদার থেকে নামি স্বর্ণ ফ্রাঞ্চাইজের শোরুমগুলিতে সোনার বিক্রি কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় স্বর্ণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষজনেরা।
Purba Medinipur,West Bengal