Last Updated:
Air India Crash Update: AI-171 দুর্ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্য, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমান বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন পাইলট? দাবি ঘিরে বিতর্ক। আগামী মাসেই চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতা: লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর আহমেদাবাদের মর্গে ঢুকে বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখেছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, এখনও সেই দৃশ্য চোখ থেকে সরাতে পারছেন না তিনি। এমনকি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের দেহ নাকি উদ্ধার হয়েছিল ককপিটের স্টিয়ারিং ইয়োক আঁকড়ে থাকা অবস্থাতেই।
২০২৫-এর ১২ জুন, আহমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল ভবনে আছড়ে পড়েছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনায় বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও কর্মী-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতেও প্রাণ হারান বহু মানুষ। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মাত্র একজন যাত্রী বিশ্বাসকুমার রমেশ। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রোমিন ভোহরার পরিবারের তিন সদস্যও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পিসি ইয়াসমিন, লন্ডনে অ্যামাজনে কর্মরত ভাই পারভেজ এবং মাত্র তিন বছরের ভাইঝি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমিন জানান, কোভিডের সময় আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে প্যাথোলজি ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই পরিচিতির সূত্রেই মর্গে প্রবেশের সুযোগ পান। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সদস্যদের দেহ শনাক্ত করা। কিন্তু ভিতরে ঢুকেই তিনি দেখেন ভয়াবহ দৃশ্য। তাঁর দাবি, বহু দেহ মেঝেতে পাশাপাশি রাখা ছিল। কোথাও বিচ্ছিন্ন হাত-পা, কোথাও পোড়া অবস্থায় মায়ের কোলে শিশুর দেহ। এমনকী নিজের ভাইঝির খুলি একটি ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় এক বিশেষ দৃশ্য। রোমিনের দাবি, বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের দেহ মর্গের এক কোণে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ”দেহটি তখনও বসা অবস্থাতেই ছিল। শরীরের পিছনের অংশ পুড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সামনের অংশ প্রায় অক্ষত ছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, পাইলটের সাদা ইউনিফর্ম, কাঁধের চারটি সোনালি স্ট্রাইপ, টাই, ট্রাউজার্স এমনকী জুতোগুলিও অক্ষত ছিল। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, তাঁর হাতে নাকি তখনও বিমানের ডাবল-হ্যান্ডেলড ইয়োক ধরা ছিল, যা দিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
রোমিনের দাবি, দুর্ঘটনার মুহূর্তে বা উদ্ধারকাজের সময় ককপিট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইয়োকটি তাঁর হাতেই থেকে যায়। ডেইলি মেলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মর্গে উপস্থিত এক চিকিৎসকও নাকি এই বর্ণনাকে সমর্থন করেছেন। বিমান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে তা প্রমাণ করতে পারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন ক্যাপ্টেন সবরওয়াল।
এরই মধ্যে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে এক পাইলটকে বলতে শোনা যায়, ”তুমি কেন বন্ধ করলে?” জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ”আমি করিনি।” এই কথোপকথনের পর থেকেই পাইলটের ভুল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে ক্যাপ্টেন সবরওয়ালের পরিবার এবং পাইলট সংগঠনগুলি সেই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, মৃত পাইলটদের উপর অন্যায্য ভাবে দায় চাপানো হচ্ছে।
ক্যাপ্টেনের ৮৮ বছরের বাবা পুষ্করাজ সবরওয়াল এবং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক রিপোর্টে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও এই ধরনের মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু সকলকে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আবেদন জানিয়েছেন। আগামী মাসেই চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
Kolkata,West Bengal
