এই ঘটনাটি ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ মৃতার মা অভিযোগ করেছেন যে যৌতুকের দাবিতে, এমনকি একটি ব্রেজা গাড়ির জন্য চাপ দেওয়া-সহ, তাঁর মেয়েকে বারবার মারধর, অনাহারে রাখা ও হয়রানি করা হয়েছে। এই অপমৃত্যুতে সাম্প্রতিক ত্বিশা শর্মা ও দীপিকার মৃত্যু মামলার সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে। যেখানে পরিবারগুলো একইভাবে হয়রানি, সন্দেহজনক আঘাত এবং প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টার অভিযোগ করেছিল।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সম্পর্ক উন্নত হওয়ার আশায় পরিবারটি প্রাথমিকভাবে পুলিশি পদক্ষেপ এড়িয়ে গিয়েছিল।“আমরা ভেবেছিলাম পুলিশি ব্যবস্থা নিলে সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। আমরা তাদের সবকিছু বুঝিয়ে বলতাম। তারা কয়েকদিন ঠিকঠাক ব্যবহার করত, তারপর আবার তাকে জ্বালাতন করা শুরু করত। তারা আসলে কখনওই বদলায়নি,” তিনি বললেন।
পরিবারের মতে, পালক তাঁর মৃত্যুর প্রায় ২০ মিনিট আগে বাবাকে সাহায্যের জন্য ফোন করেছিল। তাঁর বাবা অভিযোগ করেছেন যে, পালককে কণ্ঠস্বর আতঙ্কিত শোনাচ্ছিল এবং তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করছিলেন।
জানা গিয়েছে খবর পেয়ে যখন পালকের আত্মীয়রা বাড়িতে পৌঁছলেন, তত ক্ষণে তিনি মারা গিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর গলা, পা ও শরীরের আরও কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তারা এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।
পরিবারটি আরও অভিযোগ করেছে যে, বিয়ের পর পালককে বাড়ির ভেতরে একঘরে করে রাখা হয়েছিল এবং তিনি নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন। জানা গিয়েছে, পালক সোশ্যাল মিডিয়া রিল তৈরি করতেন এবং অনলাইনে তার প্রায় ১০,০০০ ফলোয়ার ছিল। শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনা বাড়ার সময়েও তিনি প্রকাশ্যে কন্টেন্ট শেয়ার করা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, পরিবারটি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই মৃত্যুটি ঘটায় মামলাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সিনিয়র পুলিশকর্তা রবিন জৈন বলেছেন, নিহতের পরিবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে এবং তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, চিকিৎসাবিধি সংক্রান্ত তথ্য, ফরেনসিক প্রমাণ ও সাক্ষীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।