Last Updated:
East Bardhaman News: ফের প্রসূতির মৃত্যুতে ধুন্ধুমার কাটোয়া হাসপাতাল। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার আগেই মৃত্যু হল গৃহবধূ সুস্মিতা প্রধানের । তাঁর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে৷ গৃহবধূর মৃত্যুতে আটক করা হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মীকে৷
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ফের চাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দু কাটোয়া। এক প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে এবার কাঠগড়ায় উঠলেন একই চিকিৎসক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়ার স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।মৃত গৃহবধূর নাম সুস্মিতা প্রধান (২৮)। তিনি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার মুরন্দি গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তাঁকে কাটোয়ার চিকিৎসক ডা. আর. এন. মণ্ডলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, পরীক্ষা করার পর দ্রুত সিজার অপারেশনের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। যদিও পরিবারের দাবি, এর আগে সুস্মিতার দুটি সন্তানই স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে হয়েছিল।পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক সমস্যার কথা জানালে কম খরচে অপারেশনের আশ্বাস দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শেই কাটোয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় সুস্মিতাকে। সেখানেই সিজার অপারেশন হয় এবং একটি সুস্থ সন্তানের জন্মও হয়।
কিন্তু এরপরই আচমকা প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগ।পরিজনদের দাবি, প্রথমে তাঁদের জানানো হয়েছিল রোগী সুস্থ আছেন। পরে হঠাৎ ফোন করে বলা হয় অবস্থার অবনতি হয়েছে। এরপর তড়িঘড়ি অ্যাম্বুলেন্সে করে সুস্মিতাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় নার্সিংহোম চত্বরে। ক্ষুব্ধ পরিজনেরা বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কাটোয়া থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসক ডা. আর. এন. মণ্ডল ও নার্সিংহোমের এক কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, অতীতেও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানিয়েছেন, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”এদিকে মৃতার স্বামী তাপস প্রধানের অভিযোগ, “অপারেশনের পর ঠিকমতো চিকিৎসা হলে হয়তো স্ত্রীকে বাঁচানো যেত।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়া ও কেতুগ্রাম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
Kolkata,West Bengal
May 20, 2026 12:40 PM IST
