Last Updated:
East Bardhaman News: কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই ইউটিউবে ছবি আঁকা শিখে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পেলেন বিশেষ উপহার। অবিশ্বাস্য এই প্রাপ্তির পর পুরো বিষয়টি মেমারীর যুবকের কাছে সিনেমার মতো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
মেমারি,পূর্ব বর্ধমান, সায়নী সরকার: লকডাউনে ইন্টারনেট দেখে শিখেছিলেন ছবি আঁকা, আঁকলেনও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি, এল প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা। এ যেন ঠিক সিনেমার গল্প। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে প্রথমে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মেমারীর সৌমেন দত্ত। এটা যেন তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। আপ্লুত সৌমেন পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাংলা থেকে টাটা বিদায় নিলেও বাংলার জন্য কিছু করতে বলব, তাহলে আমরা বাংলাতেই কাজ করতে পারব’, বলে জানালেন মেমারীর সৌমেন দত্ত।
চলতি বছরেরই মাস কয়েক আগে গুজরাটের সানন্দে ‘সেমি-কন্ডাক্টর চিপ’ উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই টাটা অটোকম সিস্টেম লিমিটেডের বেশ কয়েকজন আমন্ত্রিত ছিলেন। বাংলার সৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তাঁরাই টাটা অটোকম সিস্টেম লিমিটেডের কর্মী মেমারীর গোপগন্তার ২ পঞ্চায়েতের দেবপুরের যুবক সৌমেন দত্তের আঁকা স্বামী বিবেকানন্দর একটি ছবি নিয়ে যান অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই ছবি সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি এক জওয়ান।
সৌমেন দত্ত জানান, “নিরাপত্তারক্ষীরাই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের বিভিন্ন সংস্কৃতিক জিনিস পছন্দ করেন এবং আমার কাছে একটি চিঠিও আসতে পারে মোদি জী-র পক্ষ থেকে। আমার ঠিকানাও চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে ভাবিনি সত্যিই প্রধানমন্ত্রী আমার ছবি দেখবেন ও চিঠি পাঠাবেন। চিঠি পেয়ে আমি আপ্লুত।” সামান্য ইন্টারনেট দেখে শেখা আঁকা যে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দেবে, তা হয়তো ভাবেননি খোদ সৌমেনও। মেমারীর যুবকের এই সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণা নেটপাড়ায়।
তবে কখনও হাতেকলমে ছবি আঁকা শেখেন নি সৌমেন দত্ত। মেমারীর রাধাকান্তপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও গন্তার বিএম হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর সে তেহট্ট সদানন্দ মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে চাকরী সূত্রে গুজরাটে চলে যায়।সেখানেই বর্তমানে টাটা অটোকম সিস্টেম লিমিটেডে কর্মরত সৌমেন এবং এমবিএ করছেন। সৌমেনের বাবা বীরেন্দ্রনাথ দত্তের মেমারী শহরে একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দোকানের কর্মী। ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি একটা ভালবাসা ছিল সৌমেনের। লকডাউনের সময় ইন্টারনেট দেখে শেখা শুরু করেন পোর্ট্রেট আঁকা। প্রথম তিনি আঁকেন সুশান্ত সিং রাজপুতের ছবি। তাঁর এই ছবি আঁকার প্রতি ভালবাসার কথা জানত তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষকরা। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌমেনের আঁকা ছবির উপহার দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সৌমেন বলেন, “প্রথম ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর ছবিই আঁকব কিন্তু পরে ভাবলাম আমি বাংলার ছেলে। তাই বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা যায় এরকম কিছু আঁকব। সেখানে থেকে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি আঁকার কথা চিন্তা করি আর প্রধানমন্ত্রীও স্বামী বিবেকানন্দ দ্বারা অনুপ্রাণিত।”
পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর একটি পোর্ট্রেট উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সৌমেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে একটি প্রশ্ন করার খুব ইচ্ছা রয়েছে, তিনি এই বয়সে এত ফিট কী করে? কীভাবে এত এনার্জী দিয়ে এখনও দেশকে চালাচ্ছেন? এর পিছনের রহস্যটা কী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কাছে গুজরাটের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও উন্নত করার জন্য বিশেষ ভাবে আবেদন জানাব। কারণ টাটা ন্যানো একসময় পশ্চিমবঙ্গেই হওয়ার কথা ছিল।”
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
East Bardhaman News: স্বপ্নের মতো…! ইউটিউব দেখে পোর্ট্রেট এঁকে বাজিমাত বর্ধমানের যুবকের, মিলল প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা চিঠি