Delhi-NCR অঞ্চলে ২৬ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। ভোর থেকেই গরম হাওয়া বইছে এবং রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ২২ মে রাত থেকে ধুলোঝড় ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চল যখন প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে, তখন পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতে অন্য একটি সিস্টেম সক্রিয় হয়ে উঠেছে। IMD বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে ১৩টি রাজ্যে। এর কারণ হিসেবে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপর তৈরি ঘূর্ণাবর্তকে দায়ী করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আবহাওয়া ব্যবস্থা একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চল, উত্তর ভারতের সমভূমি, উপকূলীয় এলাকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রভাব ফেলছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে একেবারে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে।
চরম গরম আবহাওয়ার মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দ্রুত অগ্রগতি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও Skymet-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করেছে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
IMD-এর অনুমান অনুযায়ী, বর্ষা ২৬ মে নাগাদ কেরলে পৌঁছতে পারে, যা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই। বর্তমান গতি বজায় থাকলে, জলসংকটে ভোগা বহু রাজ্য ও কৃষিজ অঞ্চল আগেভাগেই স্বস্তি পেতে পারে। কেরলম, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্র প্রদেশে প্রাক-বর্ষার কার্যকলাপ ইতিমধ্যেই বেড়েছে এবং উপকূল ও পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তর প্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বান্দায় তাপমাত্রা ৪৮° সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এছাড়া, কানপুর, প্রয়াগরাজ, কানপুর, ঝাঁণসি, বারাণসী, নয়ডা এবং আগ্রায় তাপপ্রবাহের জন্য ইয়েলো অ্যালার্ট জারি হয়েছে।
IMD জানিয়েছে, ২৩ মে-র পর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে আবহাওয়ার কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে তার আগে পর্যন্ত দুপুরের সময় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজস্থানেও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। চিতোরগড়ে তাপমাত্রা ৪৬.৩° সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিম রাজস্থানে রাতেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ২২ মে রাত থেকে গঙ্গানগর এবং হরনুমানগড়ে ধুলোঝড় ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বিপজ্জনক মাত্রার গরম পড়েছে। খাজুরাহোয় ২০ মে তাপমাত্রা ছিল ৪৭.৪° সেলসিয়াস। নওগঙ-এ ৪৬.৬° এবং দামোহ-এ ৪৬° সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া, ভোপাল, গ্বালিয়র, রেওয়া এবং ছাতারপুরেও তীব্র গরম ও উষ্ণ রাতের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
বিহার ও ঝাড়খণ্ডে আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের আশঙ্কা। যেখানে উত্তর ও মধ্য ভারতের বহু অংশ শুষ্ক গরমে জ্বলছে, সেখানে Bihar-এ আগামী ১২ ঘণ্টায় আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
পটনা, ভাগলপুর, দ্বারভাঙা, পূর্ণিয়া এবং মুজফফরপুরে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি হয়েছে। কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, জামশেদপুর, বোকারো এবং ধানবাদে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৭০ কিমি গতির ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় তাপমাত্রা ৪৪° থেকে ৪৫° সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। চণ্ডীগড়, হিসার, ভিওয়ানি এবং পাটিয়ালায় ২৬ মে পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে হিমালয় অঞ্চলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাবে। উত্তরাখণ্ডের চামোলি, পিথোরগড় এবং উত্তরকাশীতে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের শিমলা, কাঙড়া এবং মাণ্ডিতে ২২ ও ২৩ মে প্রবল হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় আগামী দুদিন বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে এই সপ্তাহে প্রবল ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ইসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদশ এবং সিকিমে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল ঝড় হতে পারে। কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের কারণে IMD আগামী কয়েকদিন সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য মৎস্যজীবীদের সতর্ক করেছে। উপকূলীয় কেলরম, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিম উপকূলের কিছু অংশে উত্তাল সমুদ্রের পাশাপাশি প্রবল প্রাক-বর্ষার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপপ্রবাহ ও প্রবল ঝড়—দুই ধরনের বিপদের কথা মাথায় রেখে IMD সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দুপুরের সময় বাইরে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বজ্রঝড়ের সময় গাছ, খোলা মাঠ এবং দুর্বল কাঠামোর কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।