Last Updated:
দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—সবই নির্ভর করে সেই আয়ের উপর। অথচ এখনও বহু পরিবার পর্যাপ্ত বিমা সুরক্ষার আওতায় নেই। কী ভাবে করবেন বিমার পরিকল্পনা, দেখে নিন।
ভারতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে, বদলাচ্ছে মানুষের স্বপ্ন ও দায়িত্বও। তবে এই অগ্রগতির মাঝেও বহু পরিবার এখনও আর্থিক সুরক্ষার বাইরে রয়ে গিয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ব্যক্তির কিছু হলে সংসার হঠাৎই গভীর সংকটে পড়তে পারে। দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—সবই নির্ভর করে সেই আয়ের উপর। অথচ এখনও বহু পরিবার পর্যাপ্ত বিমা সুরক্ষার আওতায় নেই।
গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনায় দেখা যায়, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার ইচ্ছার অভাব নেই। সমস্যা হয় মূলত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। অনেকের কাছেই জীবন বিমা নেওয়ার বিষয়টি জটিল বা পরে করার মতো বলে মনে হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন বিমা কোনও বিলাসিতা নয়, এটি একটি প্রয়োজন। আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক সময় এখনই।
জীবন বিমার অঙ্ক নির্ধারণে একটি সহজ নিয়মও তুলে ধরা হয়েছে—
লাইফ কভার = বার্ষিক আয় × অবসর নেওয়া পর্যন্ত বাকি কাজের বছর
অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে পরিবারের যে আয় হারিয়ে যাবে, সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই এই কভার নির্ধারণ করা উচিত।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যদি কারও বয়স ৩৫ বছর হয়, বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকা এবং অবসরের বয়স ৬০ ধরা হয়, তবে তাঁর বাকি কর্মজীবন প্রায় ২৫ বছর। সে ক্ষেত্রে তাঁর জীবন বিমার কভার হওয়া উচিত প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। পরে নিজের ঋণ, দায়-দায়িত্ব, সঞ্চয় ও সম্পত্তির ভিত্তিতে এই অঙ্কে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে থাকা অধিকাংশ টার্ম প্ল্যান, যেমন Bandhan Life-এর বিভিন্ন পরিকল্পনাও এই ধরনের কভার দেওয়ার জন্য তৈরি। আয়ের পরিমাণ ও জীবনের পর্যায়ের সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পনা করলে শুরু থেকেই একটি শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা তৈরি করা সম্ভব।
তবে শুধু সুরক্ষা নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় আর্থিক তহবিল গড়ে তোলাও সমান জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় বাড়লে এবং আর্থিক দায়িত্ব কমতে শুরু করলে জীবন বিমার উপর নির্ভরশীলতাও ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এই কারণেই কিছু টার্ম প্ল্যানে ‘স্পেশাল এক্সিট ভ্যালু’-র মতো সুবিধাও রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, Bandhan Life-এর নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় ৫৫ বছর বয়সে গ্রাহক চাইলে প্ল্যান থেকে বেরিয়ে গিয়ে জমা দেওয়া সমস্ত প্রিমিয়াম ফেরত পেতে পারেন।
এছাড়াও, বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই জীবন বিমা নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন। কম বয়সে বিমা নিলে প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম থাকে এবং পরিবারও দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আসে।
তাঁদের মতে, জীবন বিমার কোনও নিখুঁত ফর্মুলা না থাকলেও শুরু করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। কারণ শেষ পর্যন্ত জীবন বিমার মূল উদ্দেশ্য একটাই—যে কোনও পরিস্থিতিতে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা। আর সেই সিদ্ধান্তে দেরি করাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
