খাওয়ার উপযোগী সোনা বা ‘এডিবল গোল্ড’ তৈরি হয় ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে। এটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। গোল্ড লিফ বা সোনার পাত তৈরি করতে প্রথমে খাঁটি সোনাকে ১,০৯৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় গলানো হয়। এরপর সেটিকে ছাঁচে ঢেলে সোনার বার তৈরি করা হয়। পরে সেই বারকে বারবার রোল ও প্রেস করে অত্যন্ত পাতলা করা হয়, যার পুরুত্ব প্রায় ০.০০০১ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়।
এই সোনার পাত এতটাই পাতলা হয় যে প্রায় স্বচ্ছ দেখায় এবং অত্যন্ত হালকা হয়। বাজারে এটি পাত, ফ্লেক্স, গুঁড়ো বা কণার আকারে পাওয়া যায়।
বহু পুরনো ইতিহাস রয়েছে সোনা খাওয়ার
প্রাচীনকাল থেকেই সোনা শুধু রাজকীয় ঐশ্বর্যের প্রতীক নয়, বরং ঔষধি গুণের জন্যও ব্যবহৃত হত। প্রাচীন ভারতে ‘স্বর্ণ ভস্ম’ বা সূক্ষ্ম সোনার গুঁড়ো আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং চ্যবনপ্রাশে ব্যবহার করা হত। অন্যদিকে প্রাচীন মিশরে সোনাকে অমরত্ব ও আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হত। মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন, সোনা দেবতাদের শক্তি গ্রহণ করতে সাহায্য করে।
আলেকজান্দ্রিয়ার রসায়নবিদরা একসময় তরল সোনা দিয়ে বিশেষ পানীয় তৈরি করতেন, যা শরীরের রোগ দূর করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হত।
একইভাবে প্রাচীন জাপানে কিছু বিশেষ সাকে (জাপানি মদ)-এর বোতলে সোনার কণা মেশানো হত এবং সম্মানিত খাবারের উপর সোনার ফ্লেক্স ছড়িয়ে পরিবেশন করা হত। মনে করা হয়, এই প্রথার সূচনা হয়েছিল জাপানের চা-অনুষ্ঠান থেকে।
ইউরোপেও ছিল সোনার খাবারের চল
মধ্যযুগে ইউরোপেও খাবারে সোনা ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অভিজাত ও রাজপরিবারের মানুষরা বিলাসবহুল ভোজসভায় নানা খাবারের উপর সোনার পাত ব্যবহার করতেন।
১৩৮৬ সালে জিয়ান গালেয়াজ্জো ভিসকন্তি তাঁর কন্যা ভায়োলান্তের বিয়ে উপলক্ষে এক বিশাল ভোজের আয়োজন করেন। সেখানে স্টার্জন মাছ, কার্প, হাঁস, কোয়েল এবং পার্ট্রিজের মতো খাবার সম্পূর্ণ সোনার পাত দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়েছিল।
আবার ১৫৬১ সালে ভেনিসে প্রিন্স অফ বিসিগনানোর সম্মানে আয়োজিত এক ভোজসভায় রুটি ও ঝিনুকের উপর সোনার সাজসজ্জা করা হয়েছিল। এমনকি ভেনিসের Santa Maria Celeste কনভেন্টের সন্ন্যাসিনীরাও তাঁদের ‘বুসোলাই’ বিস্কুটে খাওয়ার উপযোগী সোনা ব্যবহার করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
১৯৮১ সালে জনপ্রিয়তা পায় এডিবল গোল্ড
তবে আধুনিক যুগে ১৯৮১ সালের আগে পর্যন্ত এডিবল গোল্ড খুব বেশি জনপ্রিয় ছিল না। সেই বছর বিখ্যাত শেফ গুয়ালতিয়েরো মার্চেসি সোনার পাত দিয়ে সাজানো বিখ্যাত ‘স্যাফরন রিসোট্টো’ তৈরি করে আলোড়ন ফেলে দেন।
তারপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন Michelin-star রেস্তোরাঁর শেফ এবং সাহসী হোম কুকরা তাঁদের রান্নায় এডিবল গোল্ড ব্যবহার করতে শুরু করেন।