Last Updated:
West Bardhaman News: একসময় বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল একশোর কাছাকাছি। এখন মাধ্যমিক পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে নিয়ে চলছে সেই স্কুল শিক্ষিকার সংখ্যা কমেছে। এক দশকের মধ্যেই বদলে গিয়েছে বিদ্যালয়টির পরিবেশ। চিত্তরঞ্জনের বিদ্যালয়ের হাল ফেরানোর দাবি উঠছে স্থানীয় মহলে।
আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান: কয়েক দশক আগে চিত্তরঞ্জনে পথচলা শুরু করেছিল চিত্তরঞ্জন হাইস্কুল ফর গার্লস। একটা সময় এই স্কুলে পড়ত ১০০’র কাছাকাছি ছাত্রী। শিক্ষিকা ছিলেন প্রায় ২০ জনের মতো। অথচ, আজ সেই ঐতিহ্যবাহী স্কুল নিজের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এখন এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীসংখ্যা মাত্র দুজন। তারা আবার নিয়মিত বিদ্যালয় আসেনা। শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে রয়েছেন মোট সাতজন। আগামীদিনে বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই।
মাত্র ১০-১৫ বছরের ব্যবধানে একটি সরকারি স্কুলের এই নজিরবিহীন কঙ্কালসার দশা নিয়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্য শিল্পাঞ্চলে। স্কুলের টিচার ইনচার্জ শ্রাবণী মণ্ডল জানালেন, আগে যে ধরণের পরিবারের মেয়েরা এই স্কুলে ভর্তি হত, এলাকায় এখন সেই বাসিন্দাদের সংখ্যা তলানিতে। আর সেই কারণেই ছাত্রীসংখ্যাও কমে গিয়েছে। আবার আগের অধিকাংশ শিক্ষিকা ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন। আর দু-একজন বদলি নিয়ে চলে গিয়েছেন অন্যত্র। ফলে একদিকে যেমন ঝড়ের গতিতে কমেছে ছাত্রীর সংখ্যা, তেমনভাবেই কমেছে শিক্ষিকার সংখ্যাও।
বর্তমানে যে দুজন ছাত্রী অবশিষ্ট রয়েছে, তারা দুজনেই দশম শ্রেণির পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কেন এভাবে স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ছাত্রীরা? জানা গিয়েছে, চিত্তরঞ্জনে আগে রেলকর্মীরা ছাড়াও অনেকে নিজস্ব বাড়ি বানিয়ে থাকতেন। তাঁদের ঘরের মেয়েরা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ছাত্রীরাই মূলত এখানে পড়তে আসত। কিন্তু পরবর্তীকালে চিত্তরঞ্জন শহর থেকে ওই সমস্ত আউটহাউস বা বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। ফলে সেই পরিবারগুলি বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যায়। সীমানা সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের ছাত্রীদের আসাও বন্ধ হয়ে যায়।
স্কুলের এই অবস্থা নিয়ে রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অর্ধেন্দু রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এই স্কুলে ছাত্রী না-থাকার বিষয় নিয়ে একাধিক বার বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি। ফলে আগামী দিনে এই বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে সংশয় এখনও পর্যন্ত দূর হয়নি। যদিও প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই স্কুলটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দুজন ছাত্রীকে নিয়ে চলছে একটি বিদ্যালয়। যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে হয়ত একসময় এই বহু পুরনো বিদ্যালয়টির পথ চলা চিরতরে থেমে যাবে।
Asansol,Barddhaman,West Bengal
West Bardhaman News: ছাত্রী সংখ্যা মাত্র দু’জন, তারাও অনিয়মিত! পড়ুয়ার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে চিত্তরঞ্জনের প্রাচীন বিদ্যালয়
