Last Updated:
East Medinipur News: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নব প্রজন্মকে সরিয়ে আনতে অভিনব উদ্যোগ। একসময় গ্রামের মাঠেঘাটে দেখা যেত ঘুড়ির লড়াই। অনেক সময় আকাশের রঙিন ছবি অন্যদেরও আনন্দ দিত। নতুন প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে আনতে খেজুরিতে আয়োজন ঘুড়ি প্রতিযোগিতার। ঘুড়ির লড়াইকে কেন্দ্র করে সকলের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
খেজুরি, সৈকত শী: বর্তমান আধুনিক যুগে প্রযুক্তির নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা নতুন প্রজন্ম যেন ক্রমশই বাস্তব জগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পড়াশোনার ব্যস্ততার ফাঁকে কিংবা অবসরের পুরোটা সময় এখন দখল করে রেখেছে কম্পিউটার গেম, স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া। মাঠের সবুজ ঘাস বা খোলা আকাশের বিশালতার চেয়ে এখনকার প্রজন্মের কাছে বেশি প্রিয় পর্দার নীল আলো। এই যান্ত্রিক জীবনযাত্রার ফলে একদিকে যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সৃজনশীলতা থেকেও তারা পিছিয়ে পড়ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
খেজুরির আকাশে যেন এখন রঙের মেলা। মাঠের টানে এবং প্রযুক্তির আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আয়োজন করল ‘ঘুড়ির লড়াই’ প্রতিযোগিতা। এককালে গ্রামবাংলার বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। সেই হারানো ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে একাগ্রতা, ধৈর্য এবং দক্ষতার চর্চা করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের মতে, ঘুড়ি ওড়ানো নিছকই এক খেলা নয়, এটি একটি শিল্প। ঘুড়ির লাটাই সামলানোর এই কাজ একাগ্রতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আকাশপানে তাকিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রক্রিয়ায় মনের গভীরতা বাড়ে, যা বর্তমানে মোবাইল-নির্ভর জীবনে প্রায় বিলুপ্ত।
উদ্যোক্তাদের কথায়, “আমরা চাই ছেলেমেয়েরা মোবাইল স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে আকাশের বিশালতাকে চিনুক। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে উঠুক, তবে তা যেন সুস্থ ও মানবিক হয়।” নতুন প্রজন্মের সাড়া এই অভিনব প্রতিযোগিতায় ছোট থেকে বড়, সব বয়সের ছেলেমেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। খেজুরির বিস্তীর্ণ মাঠে প্রতিযোগীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল আকাশ। কেউ তৈরি করেছে রঙ-বেরঙের চিল ঘুড়ি, আবার কারও ঘুড়িতে ফুটে উঠেছে বৈচিত্র্যময় নকশা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক কিশোরের কথায়, মোবাইল গেমের চেয়ে এই লড়াই অনেক বেশি রোমাঞ্চকর। সবমিলিয়ে এই ঘুড়ির লড়াই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয় খেজুরি বিদ্যাপীঠ স্কুলের ফুটবল মাঠে। এই প্রতিযোগিতায় এলাকার প্রায় ৪৩ জন কচিকাঁচা প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে তাদের দক্ষতা, একাগ্রতা এবং ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতি ভালবাসার এক চমৎকার নিদর্শন তুলে ধরে। প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে, যখন মোবাইল ফোন শিশু-কিশোরদের জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে, তখন তাদের মাঠমুখী করা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পুনরায় একাত্ম করার লক্ষ্যেই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
Purba Medinipur,West Bengal
East Medinipur News: পর্দার নীল আলো ছেড়ে সবুজ মাঠে ফেরানোর লড়াই, পুরনো খেলায় বুঁদ হয়ে গেল নব প্রজন্ম! ছেলেবেলার স্বাদ নিতে হাজির বহু মানুষ